স্থানীয় সংবাদ

খুলনার দৌলতপুরে আত্মহত্যার প্ররোচনায় যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার আসামি রাসেল গ্রেপ্তার

# সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি ভিকটিম পরিবারের, উৎসুক জনতার ভীড়
# পুলিশ বলছে : মামলার তদন্তের কার্যক্রম ও বাকি আসামী গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে #

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৪ নং ওয়ার্ডস্থ দেয়ানা উত্তরপাড়া এলাকায় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. ছালাম গাজীর পুত্র সৈকত (২৮) নামের এক যুবকের আত্মহত্যার প্ররোচনার ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. সাগর গাজীর বাদী হয়ে করা মামলার এজাহার নামীয় এক আসামীকে মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে দৌলতপুর থানাধীন দেয়ানা পাখির মোড় এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেফতারকৃত আসামি হলেন- দেয়ানা মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা আনিসের পুত্র রাসেল (২৬)। ওই ঘটনাস্থলে পুলিশ আসামী গ্রেপ্তার কালে উৎসুক জনতা ভীড় জমায়।
পুলিশ জানায়, ভিকটিম পরিবার অভিযোগ করেন নিহত সৈকত (২৮)’কে এজাহার নামীয় আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে একই উদ্দেশ্যে আটক করে মারধর করতঃ আত্মহত্যার সহায়তা করার অপরাধ করছে। সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে ওই মামলার এজার নামীয় ৪ নং আসামি দেয়ানা পাখির মোড় এলাকায় অবস্থান করছে। ওই সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ আসামীকে গ্রেফতার করে। পুলিশ আরও জানায়, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্তের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতেমধ্যে এজাহার নামীয় এক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে সক্ষম হবেন তারা বলে আশাবাদী। অপরদিকে, মামলার বাদী ও সৈকত হারা পরিবারের স্বজনেরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এ নির্মম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, বাকি আসামীদের গ্রেফতার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পুলিশ প্রশাসনের নিকট। নিহতের পিতা মো. ছালাম গাজী জানান, দৌলতপুরের থানায় দায়ের করা মামলার এক আসামিকে গতকাল পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাকি আসামিদেরও দ্রুত সময়ের মধ্যেও গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, গত, মে মাসের ২৫ তারিখে সাগরকে নবীসহ ৫ জন ওকে চোরের অপবাদ দিয়ে বেদম মারপিট ও জখম করে আটকে রাখে। তারপর বাড়ীতে এসে আবার ঘরে বাইরে চলে যায় সৈকত। ওই আসামীদের উপর অভিমান করে আমার ছেলে বন মারা বিষ খায়। প্রায় ৩ লক্ষ টাকার মতো খরচ করে টানা ১ মাস ওর চিকিৎসা করতে থাকি, অবশেষে ১ মাস চিকিৎসাধীন থাকার বুধবার (২৪ জুন ) বিকালে ওর মৃত্যু হয়। আমি আমার ছেলের সাথে ঘটনা যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, বাদীর দায়ের করা মামলার বিপরীতে তদন্ত চলমান এবং আসামি গ্রেফতারেরঅভিযান অব্যাহত রাখি। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেয়ানা পাখির মোড় এলাকা থেকে এজাহার নামীয় এক আসামিকে গ্রেফতার করি। আশাবাদী দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি আসামিদের গ্রেফতারে সক্ষম হব।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা ওসি (তদন্ত) এ.এফ.এম জাহিদুল ইসলাম জানান, দৌলতপুর থানাধীন দেয়ানা উত্তরপাড়া এলাকার সৈকত নামের এক যুবকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত হয়। ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের করা মামলার এক আসামিকে মঙ্গলবার দুপুরে দৌলতপুর থানাধীন পাখির মোড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button