স্থানীয় সংবাদ

ডুমুরিয়ায় খাল খননে অতিদরিদ্রদের নামে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ

# জলাবদ্ধতা নিরসনে মিলবে না সুফল
# খাল খননে মানা হচ্ছেনা প্রকল্পের নিয়ম

এম রুহুল আমিন : অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান বিশেষ অনুদান খাতে বরাদ্দকৃত টাকা হতে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার জন্য ৬৩টি জেলার ২৪৯ টি উপজেলায় খাল খননের আওতায় খুলনা ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষ্ণনগর নিমতলা হতে রংপুর সারাতলা দক্ষিণ পার্শ্ব ৮০ ফুট পর্যন্ত ও সাহস ডোলডাঙ্গা খাল হতে ভদ্রা নদী পর্যন্ত খাল পুনঃ খনন করার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার জলাবদ্ধতার সমস্যা দীর্ঘদিনের। এই জলাবদ্ধতা নিরসনে নির্বাচনী প্রতিশ্রতি অনুযায়ী খাল খননের উদ্যোগ নেয় সরকার। তারই অংশ হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে (ইজিপিপি) অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় বিল ডাকাতিয়ার নিমতলা থেকে সাড়াভিটা ৮০ ফুট খাল নামে পরিচিত খালটি ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা ব্যয়ে খনন করা হচ্ছে। যার মধ্যে শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ (ওয়েজ কস্ট) ৮৯ লক্ষ৫২ হাজার ৮৯ টাকা ও আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে খনন (নন ওয়েজ কস্ট) ৯০ লক্ষ ৭১ হাজার ৮ শত ৪৩ টাকা এবং সর্দার বাবদ ৪ হাজার ৩ শত টাকা ব্যয় কৃষ্ণনগর নিমতলা হইতে বিল ডাকাতিয়া হয়ে রংপুর ৮০ ফুট খালের মাথা পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার কাল খননের কর্মসূচি গ্রহণ করে। এছাড়া ডুমুরিয়ার ডোলডাঙ্গা কাঠবুনিয়া খাল খননে বরাদ্দ ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৮ টাকা। যার মধ্যে শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ ৬৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০টাকা। আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে খননের জন্য বরাদ্দ ৬৪ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৮ টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ যে খালে এখনও ৫ থেকে ১০ ফুট পানি রয়েছে সেই খাল খননের কি প্রয়োজন। তাছাড়া খাল খননের মাটি খালের মধ্যেই রাখা হচ্ছে যা বৃষ্টি হলে আবার খালে যাবে। জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হলে পানি বের হওয়ার স্থান আগে খনন করতে হবে। না হলে কোন উপকারে আসবে না,ডুমুরিয়ায় খাল খননের নামে অর্থের অপচয়। এলাকাবাসির অভিযোগ,প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী দৈনিক মজুরি দিয়ে স্থানীয় ৫০ভাগ লোক কাজ করাতে হবে। যেখানে ৭ কিঃমিঃ খালই পানির নিচে নিমজ্জিত,কোথাও এক মিটার জায়গাও পানি শুকাতে পারিনি। তাহলে পানির নিচে দৈনিক শ্রমিক কিভাবে কাজ করলো? ভেক্যু দিয়ে সামান্য কিছু মাটি খালের দু পাড়ে ফেলা হয়। সেই মাটি ড্রেসিং এর কাজে কিছু শ্রমিক কাজ করছে। খাল খননের কাজে যে ৭২৯ জন দৈনিক শ্রমিক দেখানো হয়েছে,তার বেশিরভাগ শ্রমিক গরিব ও হতদরিদ্র নয়। তার মধ্যে বেশিরভাগ শ্রমিকই কাজের সাইডে অনুপস্থিত থাকে। সুত্রে জানা যায়, এদিকে গত মাসে ত্রান মন্ত্রণালযের যুগ্ম-সচিব মিনাক্ষী ব্রহ্ম জলাবদ্ধতা নিরসন ও খাল খননের প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে আসেন। খাল খনন কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করে নকশা অনুযায়ী ও পানি অপসারণ করে খাল খননের নির্দেশনা দিয়েছেন। পানির মধ্যে ভাসমান ভেক্যু দিয়ে পেড়ি (ঝোপ) মাটি তুলে ফেলা হচ্ছে খালের পাড়ে। শ্রমিকদের অংশগ্রহণে খাল কাটার কথা থাকলেও সেটি করা হচ্ছে না। খাল খননে মানা হচ্ছেনা প্রকল্পের নিয়ম। এই খাল দু’টি খননে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি টাকার উপরে। কৃষ্ণনগর নিমতলা খালটি ৩ জুন-২৬ থেকে শুরু করে ২৩ জুন পর্যন্ত ২০ দিনে কাজ সম্পন্ন হয়েছে শতকরা ৫০ ভাগ আর ২৪ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এক সপ্তাহে খনন করা হয়েছে ২১ ভাগ। যা অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে। এলাকাবাসী বলছে নিয়ম বহির্ভূতভাবে পুনঃ খননকৃত খাল যা শুধু নামে মাত্র কিছু পুরুষ ও মহিলা শ্রমিক দিয়ে কচুরিপানা পরিষ্কার করেছে। কিছু কিছু জায়গায় ভাসমান এস্কেভেটর দিয়ে পেরী কাঁদা তুলেছে। এলাকার সচেতন মানুষদের অভিযোগ,এই খাল খননের নামে লুটপট করা হয়েছে,এটি জনগগের কোন কাজে আসবে না। ৪১৬ও ৩১৩ জন শ্রমিকের তালিকা নিয়ে তাদের কার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে,কিন্তু সরোজমিনে দেখা যায় ৫০ থেকে ৬০ জন লেবার প্রত্যেকদিন কাজ করেছে। তাও সর্বদা কাজ করানো হয়নি। সুত্রে জানা যায়,খাল খনন কাজ ২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পের।তরিঘরি করে ৩০শে জুন পর্যন্ত কাজটির অগ্রগতি দেখিয়ে বিল জমা করা হয়েছে। আসলে সরোজমিনে দেখা যায়,৭১দশমিক ৪০ভাগ কাজ করা হয়নি বিল ডাকাতিয়ার নিমতলা থেকে ৮০ফুট খাল খনন প্রকল্পের সভাপতি ২নং রঘুনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনোজিৎ বালা বলেন, খাল খনন কাজ সঠিক ভাবে করা হচ্ছে। শ্রমিকদের দিয়ে পাড় বাঁধাই এর কাজ করছে। এর মধ্যে দুর্বল ও বয়স্কদের বাদ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। তবে খাল খনন প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া অর্থ এখনও আমরা পাইনি। খালখনন কমিটির সদস্য সচিব আরতী বৈরাগী বলেন, খাল খননের কাজ চলছে। তবে সোমবার কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানান। আমার এলাকার শ্রমিকরা কচুরিপানা পরিষ্কার করে মাটি ড্রেসিং এর কাজ করছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা(পিআইও) রফিকুল ইসলাম বলেন, সাত কিঃমিঃ খাল খননে ৩ জুন-২০২৬ থেকে খাল খনন কাজ শুরু করা হয়। এখানে প্রতিদিন কাজ করেছে ৩৯০ জন শ্রমিক ও সাহস খালে খননে প্রতিদিন ২৬০/২৭৫জন শ্রমিক। খুলনা জেলা অফিসের ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল করিম জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ি খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার দু’টি খাল খনন করা হচ্ছে। ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষ্ণনগর নিমতলা খাল ও সাহস খাল খনন করা হয়েছে। কৃষ্ণনগর খালটি ৭১ দশমিক ৪০ ভাগ সম্পূর্ণ হয়েছে ও সাহস খাল শতভাগ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কৃষ্ণনগর খালটি এ বছর আর খনন কাজ করা সম্ভব নয় বলে আগামী বছর পুনরায় কাজ শুরু করবেন। এলাকাবাসী বলছে এই খাল খনন কাজগুলো পুনরায় তদন্ত করে লুটপাটের সঠিক চিত্র রেড়িয়ে আসবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button