স্থানীয় সংবাদ

দৌলতপুর কলেজে নিয়মিতদের প্রশ্নে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা

# ধামাচাপা দিতে ৭ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জোরপূর্বক দরখাস্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি
# শিক্ষার্থীদের জীবনে সর্বনাশ এর দায়িত্ব কে নিবে ?
# দু’দিনই অনিয়মিত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে নিয়মিত প্রশ্নপত্রে #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ নগরীর দৌলতপুর (দিবা/নৈশ) কলেজে চলমান মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় বাংলা দ্বিতীয়পত্র ও ইংরেজি প্রথম পত্র অনিয়মিতদেরকে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (কেন্দ্র সচিব) কলেজ অধ্যক্ষ এ এস এম আনিসুর রহমানকে ৬ জুলাই ২০২৬ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোর’র পরীক্ষার নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম হোসেন আলী স্বাক্ষরিত স্মারক নং পনি /পিএ১২৪৫ এবং ৭ জুলাই ২০২৬ খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত স্বাক্ষরিত -০৫,৪৪,৪৭০০,০০০০,০২০,১৮,০০০৯,২৬ নম্বর স্মারকে চিঠির মাধ্যমে কেন্দ্রের পরীক্ষার সকল কার্যক্রম হতে অব্যাহতি প্রদান করেন। দৌলতপুর কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হয়। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর কলেজটির অধ্যক্ষ এ এস এম আনিসুর রহমানকে সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়ে কলেজের উপাধ্যক্ষ সদরুজ্জামানকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, কেন্দ্রীয় কমিটি এর দায় থেকে বাঁচতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লিখিত আবেদন জমা নিয়েছে। এই বিষয়টাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ৭ জন শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বকভাবে তাদের কাছ থেকে দরখাস্ত নিয়েছে কেন্দ্র কমিটি। আবেদনে উল্লেখ করেছেন, আমি নতুন সিলেবাস অনুসারে পড়াশোনা করেছি এবং সেইভাবে পরীক্ষা দিতে চেয়েছি ফরম পুরণ করিনি, ২০২৫ সালের পরীক্ষায় ফরম পুরণ করি নাই এবং পরীক্ষা দেই নাই, তাই ২০২৬ সালের সিলেবাস অনুসারে নিজের ইচ্ছায় পরীক্ষা দিয়েছি। তবে নিয়মবহির্ভূত এমন ঘটনায় দৌলতপুর দিবা-নৈশ কলেজের সব পরীক্ষা কমিটিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির পরিবর্তনের বিষয়ে নিশ্চিত করেন কলেজটির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান। কলেজ সুত্রে জানা যায়, খুলনার দৌলতপুর (দিবা-নৈশ) কলেজ কেন্দ্রে মাওলানা ভাসানী বিদ্যাপীঠ, মহেশ্বরপাশা শহীদ জিয়া মহাবিদ্যালয় এবং মুহসিন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। ৪ জুলাই বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার দিন ২৫৩ জন পরীক্ষার্থীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ২৫০ জন পরীক্ষা দেন। ৬ জুলাই ইংরেজি প্রথমপত্র পরীক্ষার দিন ৩৮০ জন পরীক্ষার্থীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও পরীক্ষা দেন ৩৭৩ জন। এর মধ্যে নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিল ২১৯ জন এবং অনিয়মিত ছিল ১৫৪ শিক্ষার্থী। এই দুদিনই অনিয়মিত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীর একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, কলেজ অধ্যক্ষের এমন গাফিলতি শিক্ষার্থীদের জীবনে সর্বনাশ বয়ে আনতে পারে। এসব শিক্ষার্থীর ফল খারাপ হলে দায় কে নেবে। পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আল সানিয়া বলেন, এই শিক্ষার্থীরা ২০২৪-২৫শিক্ষাবর্ষে ফরমপূরন করেনি, তাই তারা নিয়মিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে অংশ গ্রহন করেছে। বাংলা ও ইংরেজি পরীক্ষায় অনাকাঙ্খি ভুল হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এটি করা হয়েছিল। দৌলতপুর (দিবা-নৈশ) কলেজের অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান জানান, কিছু শিক্ষার্থী ২০২৩-২৪ও ২০২৪-২৫ সালে ফরম পূরন করেনি তাই সরাসরি ২০২৬ সালের ফরম ফিলাপ করে। তারা নিজেদের নিয়মিত শিক্ষার্থীর দাবি করে। অনিয়মিত হওয়া সত্ত্বেও হলের ভেতর জোর করে নিয়মিতদের প্রশ্নপত্র নিয়েছে। ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button