জাতীয় সংবাদ

৬৪ জেলায় ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও ৮ হাজার ৯৫০ টন চাল বরাদ্দ

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় গত ৭ জুলাই থেকে ধারাবাহিকভাবে দেশের ৬৪ জেলার জন্য নগদ অর্থ ও চাল বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এ সময়ে মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল মানবিক সহায়তা হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক তথ্যবিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়। তথ্যবিবরণীতে বলা হয়, প্রথম ধাপে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, শেরপুর ও কুড়িগ্রাম জেলায় মোট ৬০ লাখ টাকা এবং ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দেশের বাকি ৫৭ জেলার প্রতিটির জন্য ৫ লাখ টাকা এবং ১০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৯ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার জন্য অতিরিক্ত ২৫ লাখ টাকা ও ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই দিনে কক্সবাজারের জন্য ২০ লাখ টাকা ও ২৫০ মেট্রিক টন চাল এবং খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার প্রতিটির জন্য ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া মৌলভীবাজার জেলার জন্য ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১০ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার জন্য আরও ৫ লাখ টাকা এবং ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়, যাতে জেলার চলমান ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা যায়। নাটোরে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ: মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর নাটোরে চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে শহরের আলাইপুরস্থ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভাঙচুর ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এ সময় হাসপাতালের জানালা ও গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সদর উপজেলার আগদিঘা গ্রামের রিকশাচালক বাবু হোসেন তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রুমি বেগমকে নিয়ে গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গেলে চিকিৎসক তাদের বাড়িতে ফেরত পাঠান। গতকাল সকালে প্রসূতির পুনরায় প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে আবারও ওই কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় অবহেলার কারণে একপর্যায়ে শিশুটি গর্ভেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকের যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই নার্সদের মাধ্যমে ডেলিভারি করানো হয়। প্রসূতির স্বামী বাবু হোসেন ও পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর নবজাতকের শ্বাসকষ্ট ছিল। কেন্দ্রের নার্স ইতি ম-ল তখন শিশুটিকে অক্সিজেন সাপোর্টের জন্য নাটোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। স্বজনরা দ্রুত শিশুটিকে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে মৃত নবজাতকের স্বজন ও স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তারা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এ সময় দায়িত্বরত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহাবুজ্জামান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বিক্ষুব্ধ জনতা তার ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন। খবর পেয়ে নাটোর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার বিষয়ে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যদি কারও কোনো অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button