বড় জাকে হত্যার পর ডাকাতির নাটক : তিন ঘণ্টায় ধরা দেবরবধূ

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গৃহবধূ রিগান আক্তার মিম (২৬) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যে নিহতের দেবরবধূ কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনাকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রতিহিংসার জেরে বড় জা রিগান আক্তার মিমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন সুমাইয়া। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান। এর আগে দুপুরে চাঁদপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদের আদালতে সুমাইয়া ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল জানায়, গত ১৪ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩৫ মিনিট থেকে ৩টা ৩০ মিনিটের মধ্যে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাত্তলা (বেপারী বাড়ি) এলাকায় হত্যাকা-টি ঘটে। খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্রাইম সিন সংরক্ষণসহ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। পরে মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ১৫ জুলাই নিহত রিগান আক্তার মিমের বাবা মো. কবির হোসেন বাদী হয়ে শাহরাস্তি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ জানায়, মামলা হওয়ার পর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওসির নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও অন্যান্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যে নিহতের দেবরবধূ কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনাকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সুমাইয়া প্রতিহিংসার কারণে রিগান আক্তার মিমকে গলা চেপে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, আসামি কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনা আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে প্রতিহিংসার জেরে তার বড় জা রিগান আক্তার মিমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যাকা-ের দায় এড়াতে তিনি ডাকাতির একটি সাজানো গল্পও তৈরি করেছিলেন। নিহত রিগান আক্তার মিম মৃত সেলিম বেপারীর পুত্রবধূ। তিনি আড়াই বছর বয়সী কন্যা সাইফা ও চার মাস বয়সী ছেলে সিরাজের মা। ঘটনার সময় তার স্বামী রনি চাকরির কারণে ঢাকায় ছিলেন। ওই বাড়িতে দুই গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম এবং তিন শিশু অবস্থান করছিল। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শরিফুল ইসলাম তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।



