সম্পাদকীয়

জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে

# ভুল চিকিৎসায় জীবন বিপন্ন #

দেশের স্বাস্থ্য খাতে নানা অগ্রগতি হয়েছে, তবে সেবার মান নিয়ে এখনো অভিযোগের অন্ত নেই। প্রায়ই শোনা যায় চিকিৎসকের ভুলে রোগীর মৃত্যুর খবর। ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর অবস্থা আরো সংকটাপন্ন হয়েছেÑএমন এক খবর এসেছে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে। দেখা গেছে, রক্তের ভুল রিপোর্টের কারণে ১৫ মাস বয়সী শিশুকে এক-দুইবার নয়, ২১ বার ভুল রক্ত দেওয়া হয়েছে। এতে লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত শিশু আয়মানের জটিলতা আরো বেড়েছে। পিছিয়ে গেছে কেমোথেরাপির ডোজ, কয়েক লাখ টাকা তো গচ্চা গেছেই। প্রশ্ন হলো, এর দায় কার? আয়মানের শরীরের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল, তার কী হবে? পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে গত ৩ জুন আয়মানকে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, আয়মান লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত। রক্তের ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়সহ ১১টি পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। সব পরীক্ষা শিশু হাসপাতালেই করানো হয়েছে। রিপোর্টে দেখা গেছে, শিশুটির রক্তের গ্রুপ ‘এ নেগেটিভ’। এরপর আয়মানকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক মাস চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকরা পুনরায় রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার পরামর্শ দেন। এর পরই দেখা যায়, তার প্রকৃত রক্তের গ্রুপ ‘এ পজিটিভ’। আরো বেশ কয়েক জায়গায় পরীক্ষার রিপোর্ট একই আসে। কিন্তু তার আগেই যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। আয়মানের বাবার ভাষ্য, ভুল রিপোর্টের ভিত্তিতে ২১ বার রক্ত ও প্লাটিলেট সংগ্রহ এবং সঞ্চালন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ছয়-সাত লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ভুল গ্রুপের রক্ত সঞ্চালনের পর শিশুটির শরীরে র‌্যাশ, সংক্রমণ, ডায়রিয়াসহ নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। ক্যানুলা লাগানোর স্থানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় দুই হাতেই অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। বাংলাদেশে এমন ঘটনা বিরল নয়। এসব ভুল নিয়ে বিগত বছরগুলোতে শত শত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর করা হয়েছে। হতাশার ব্যাপার হলো, এর বেশির ভাগই নিষ্পত্তি হয়নি। দায়ী চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর নিবন্ধন বাতিলের ঘটনাও তেমন শোনা যায়নি। এমন গাফিলতির কারণে দায়ী ব্যক্তিরা পার পেয়ে যাচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আয়মানের বিষয়টি তদন্তাধীন। আমরা মনে করি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে শিশু আয়মানের পরিবারের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও করতে হবে। সর্বোপরি দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে জবাবদিহি ও নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button