প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব : মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান

# বাস্তহারা এলাকায় পানিবন্দীদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ #
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মমাহফুজুর রহমান বলেছেন , প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। দুর্যোগের সময়ে কেউ যেন অনাহারে না থাকে, সে লক্ষ্যেই দল এই মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, দুর্গত মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য সহযোগিতাও অব্যাহত রাখা হবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমানো সম্ভব। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে খুলনা মহানগরীর ৯নং ওয়ার্ডে পানিবন্দীদের খোঁজখবর নিতে বাস্তহারা এলাকা পরিদর্শন করে তাদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে তিনি এ সব কথা বলেন।
এ সময় তার সঙ্গে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগর সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, মহানগরী প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল গফুর, সমাজ কল্যাণ সেক্রেটারি অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, খালিশপুর থানা আমীর মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, ৯ নং ওয়ার্ড আমীর ও কাউন্সিলর প্রার্থী কাজী বায়েজীদ, সেক্রেটারি মোহাম্মদ হোসের আলী, বাস্তহারা দক্ষিণ ইউনিট সভাপতি মনিরুল ইসলাম মানিক, সেক্রেটারি ইলিয়াস হোসেন, বাস্তহারা উত্তর সভাপতি জাহিদ হোসেন, সেক্রেটারি আরমান হোসেন, শ্রমিক নেতা শামীম হাসান, গোয়ালখালি পশ্চিম সভাপতি নূর আলী, মুজগুন্নী সভাপতি কাজী ওহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারি বাদশা মোল্লা, ঝুড়িবিটা সভাপতি জয়নাল আবেদীনসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মহানগরী আমীর আরও বলেন, “আজ আমরা আপনাদের ত্রাণ দিতে আসিনি। আমরা এসেছি সহমর্মিতা ও ভালবাসা নিয়ে। আমাদের উচিত ছিল আপনাদের সকলের ঘরে ঘরে গিয়ে খোঁজ-খবর নেয়া। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য আমরা দুঃখিত। আপনাদের প্রতি জামায়াতে ইসলামীর কিছু দায়িত্ব আছে। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা আপনাদের কাছে এসেছি।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের পক্ষে ব্যাপকভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। কিন্তু সরকারের পক্ষে সম্ভব। তাই সরকারের উচিত ছিল এই বন্যায় ব্যাপকভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু সরকার সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের ভাব দেখে মনে হচ্ছে দেশের মানুষের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তারা ব্যস্ত রয়েছে নিজেদের পকেট ভারী করার কাজে। মানুষের প্রতি যে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে তা বুঝার তাওফীক আল্লাহ তাদেরকে দান করুন।
তিনি বলেন, আমরা আপনাদের জন্য যা নিয়ে এসেছি, এগুলো ত্রাণ নয়। এগুলো হলো এক ভাইয়ের দুঃখ-কষ্টে আরেক ভাইয়ের উপহার। এগুলোকে ত্রাণ বলে আমরা মানুষকে অসম্মান করতে চাই না। এই সামান্য উপহার দিয়ে আপনাদের সকল সমস্যার সমাধান হবে না। কিন্তু আমাদের আত্মা কিছুটা হলেও শান্তি পাবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা এখানে রাজনীতি করার জন্য আসিনি। আমরা এসেছি মানবতার প্রতি আমাদের ভালবাসার দায়বদ্ধতা থেকে। তিনি বলেন, হে আল্লাহ! আমরা তোমার গুনাহগার বান্দা। আমাদের মাফ করে দাও। আমাদের ভুলের কারণেই তুমি আমাদের এই বিপদ দিয়েছ। আমাদেরকে মাফ করে দিয়ে এই বালা-মুসিবত আমাদের মাথার উপর থেকে সরিয়ে দাও। আসমানী বালা আসমানে তুলে নাও, জমিনের বালা জমিনে ডুবিয়ে দাও। মানুষের জীবন-যাত্রা স্বাভাবিক করে দাও। আল্লাহর ওয়াস্তে আমাদের ক্ষমা করে দিবেন।”



