স্থানীয় সংবাদ

বাগেরহাটে চাঞ্চল্যকর ৩ জন খুনের ঘটনায় থানায় মামলা

# ট্রিপল মার্ডার ফলোআপ #

বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা পল্লীতে একই পরিবারের দুই নারীসহ ৩ জন খুনের কারন জানা যায়নি। বুধবার সকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চাঞ্চল্যকর এ খুনের কারন নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে ৩ জন খুনের ঘটনায় কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেছে পরিবার। নিহত মনিরা বেগমের বড় ছেলে ফয়সাল হাওলাদার বাদী হয়ে বুধবার সকালে কচুয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার ও হত্যার কারন নিশ্চিত হতে পারেনি। সম্ভাব্য দুই তিনটি কারন ধরে পুলিশ একই পরিবারের তিনজনের হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কাজ শুরু করেছে। অপরদিকে বুধবার সকালে বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে নিহতদের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ কচুয়া উপজেলার রাঢ়িপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরখোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের বাড়ি থেকে এই ৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। নিহতের স্বজনরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করেছে এবং হত্যাকান্ডের জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওয়তায় আনতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন। নিহতরা হলেন, কচুয়া উপজেলার রাঢ়িপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরখোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের স্ত্রী মনিরা বেগম মনি (৬০), ছেলে আহাদ আলী হাওলাদার (২৫) এবং শ^াশুড়ি রাশিদা বেগম (৯৩)। এরমধ্যে বৃদ্ধা রাশিদা বেগম কয়েকদিন আগে তার মেয়ে মনিরার বাড়িতে বেড়াতে আসছিলেন। আহাদ আলী পেশায় ছিলেন ইলেকট্রিক মিস্ত্রী। নিহতের স্বজন মিমি বেগম বলেন, কয়েকদিন আগে আমার নানী রাশিদা বেগম খালা মনিরার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। আমার খালাতো ভাই আমাদের ফোন দিয়ে বলে নানী মারা গেছেন। তখন আমি নানীর খবর জানতে আমার খালা মনিরাকে ফোন দিতে থাকি কিন্তু তিনি তা গত তিনদিন ধরে রিসিভ করছেন না। আজ আমরা খালা বাড়িতে এসে ঘরে ঢুকে দেখি নানুর অবস্থা খুবই খারাপ, এক রুমে আমার নানু, আরেক রুমের মধ্যে খালামনিকে খাটের নিচে ফেলানো আর খালাতো ভাই ঘরের খাটের উপর। তাদের সাথে কারও বিরোধ আছে কিনা, কি কারনে তাদের হত্যা করা হয়েছে তা এখন বলতে পারছিনা। ঘরে খালা মনির টাকা পয়সা ছিল। নির্মমভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে, যারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তাদের বিচার দাবি করছি। কচুয়া থানার ওসি মাহামুদ হাসান বলেন, কচুয়ায় একই পরিবারের ৩ জন খুনের ঘটনায় নিহত মনিরা বেগমের বড় ছেলে ফয়সাল হাওলাদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার ও হত্যার কারন নিশ্চিত হতে পারিনি। সম্ভাব্য দুই তিনটি কারন ধরে পুলিশ একই পরিবারের ৩ জনের হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কাজ শুরু করেছে। তদন্ত শেষে হত্যাকান্ডের প্রকৃত কারন বলা সম্ভব হবে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button