স্থানীয় সংবাদ

বাগেরহাটে মাদক বিক্রেতা ও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে সংবাদ সম্মেলন

বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা ও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নুর জাহান আক্তার তুলি নামের একজন নারী। শনিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তুলির মাতা বদরুন্নেসা ও খালা খুরশিদা বেগম উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য এবং সংবাদ কর্মীদের নানা প্রশ্নের জবাবে নুর জাহান আক্তার তুলি বলেন, দীর্ঘ আট বছর প্রবাসে থাকার পর তার ভাই শাহরিয়ার সাগর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে ফেরেন। বাগেরহাট জেলা সদরের সুলতানপুর এলাকায় বাজারের উপর তাদের বাড়ি হওয়ায় এলাকায় চুরি-ডাকাতি ও মাদকের প্রভাব ঠেকাতে পরিবারের নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। স্থানীয়দের অনুরোধে ওই ক্যামেরার ফুটেজ দেখে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় অপরাধী শনাক্তে সহায়তা করা হতো বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কুদ্দুস সাহেবের ৪টি গরু, হাসি বেগমের ছাগল, আতিয়ার রহমানের স্ত্রীর স্বর্ণের চেইন, ইউনুস শেখের অটোরিকশা এবং সরকারি পুকুরের সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি চুরিসহ একাধিক ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত করা হয়েছিল। এ কারণে, গত মে মাসে বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে তাদের সিসি ক্যামেরা চুরি হয়ে যায়। ক্যামেরা চুরির ঘটনায় স্থানীয় একটি মাদক চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানানোর পর মাদক বিক্রেতা পিন্টু মোল্লা, বাপ্পি শেখ, দাউদ শেখ, মোতাহারসহ কয়েকজন তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। সম্প্রতি তার ভাই বিদেশে চলে যাওয়ার পরও তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গত ৫ আগস্ট অভিযুক্তরা তাদের বাড়িঘর ভেঙ্গে ফেলা ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেয় বলে দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। এ ঘটনায় বাগেরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে এবং তার খালা খুরশিদা বেগম ওই অভিযোগের সাক্ষী বলে জানান তুলি। সংবাদ সম্মেলনে খুরশিদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, অভিযোগের সাক্ষী হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে পিন্টু ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে দা নিয়ে তাকে কোপাতে আসে এবং হুমকি দেয়। এ বিষয়ে আমাদের এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদর থানার এসআই মাসুদকে একাধিকবার জানানো হলেও তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন বা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমতাবস্থায় বর্তমানে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, পরিবারের সদস্য ও মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সুলতানপুর এলাকায় মাদক, চুরি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button