যশোর স্বাস্থ্য বিভাগে জনবল সংকটের ফলে এক শ্রেনীর বহিরাগতরা গ্রাম্য সহজ সরল মানুষের রোজগারের শেষ সম্বল টুকু চুষে নিচ্ছে

# জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগে মঞ্জুরীকৃত ১৬২৭টি পদে রয়েছে ৯৩৬টি শুন্য ৬৯১টি #
মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে ঃ যশোর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে জনবল ঘাটতি থাকায় জনগণের সেবায় গঠিত সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান গুলো মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার ফলে বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা গ্রাম্য সহজ সরল মানুষের রোজগারের শেষ সম্বল টুকু চুষে নিচ্ছে। একদিকে জনবল সংকট অপরদিকে সময় উপযোগি চিকিৎসা সেবা না পেয়েও বিভিন্ন পেশার মানুষ দিশেহারা হয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত আশ্রয় নিচ্ছে। এ তথ্য বিভিন্ন সূত্রের।
জেলা সিভিল কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে,র্দীঘ কয়েক বছর যাবত ও বর্তমানে প্রতিনিয়ত জেলায় সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান গুলোতে জনবল ঘাটতি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন যে পরিমানে জনবল শুন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে। সে পরিমানে নতুন জনবল সৃষ্টি না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। নতুন জনবল সৃষ্টি না হওয়ায় জেলায় গড়ে ওঠা সরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে আসা বিভিন্ন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত কারিরা কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেনা। তাছাড়া,সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন তারা জোড়াতালি দিয়ে দিন অতিবাহিত করছেন। স্বাস্থ্য সেবায় চরম সংকটময় দিন অতিবাহিত করছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
সিভিল সার্জন কার্যালয় দেওয়া তথ্য মতে,বর্তমানে যশোর জেলায় সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ সরকারিভাবে যে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার মঞ্জুরীকৃত জনবলের সংখ্যা রয়েছে ১ হাজার ৬শ’ ২৭ জন। দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৯শ’ ৩৬জন। শুন্য পদ সৃষ্টি হয়ে র্দীঘদিন পড়ে আছেন ৬শ’৯১টি। এর মধ্যে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র সিভিল সার্জন অফিসেই মঞ্জুরীকৃত পদ ৫৮টি রয়েছে ২৬টি,শুন্য রয়েছে ৩২টি,বক্ষব্যাধি হাসপাতালে মঞ্জুরী কৃত জনবল ১৫টি,রয়েছে ১২টি,শুন্য ৩টি,বক্ষব্যাধি ক্লিনিক মঞ্জুরীকৃত পদ ১৭টি,রয়েছে ১০টি ও শুন্য ৭টি,বিদ্যালয় স্বাস্থ্য ক্লিনিকে মঞ্জুরীকৃত পদ ৬টি,রয়েছে ৫টি ও শুন্য ১টি, খাবার স্যালাইন উৎপাদন ও বিতরণ সেল মঞ্জুরীকৃত পদ ৪৮টি,রয়েছে ১৬টি ও শুন্য ৩২টি, অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও তার আওতাধীন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে মঞ্জুরীকৃত পদ ১৯৮টি,রয়েছে ১১৭টি ও শুন্য ৮১টি,বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঞ্জুরীকৃত পদ ১৫০টি,রয়েছে ১০৪টি ও শুন্য ৪৬টি,চৌগাছা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঞ্জুরীকৃত পদ ১৯৪টি,রয়েছে ১০২টি,শুন্য ৯২টি,ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঞ্জুরীকৃত পদ ১৯৩টি,রয়েছে ১০২টি, শুন্য ৯১টি, কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঞ্জুরীকৃত পদ ১৯১টি,রয়েছে ১২২টি ও শুন্য ৬৯টি, মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঞ্জুরীকৃত পদ ২২৫টি,রয়েছে ১২৩টি ও শুন্য ১০২টি,শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঞ্জুরীকৃত পদ ২০২টি,রয়েছে ১২১টি ও শুন্য ৮১টি ও যশোর সদর উপজেলা ও তার আশপাশ এলাকায় সরকারি মঞ্জুরীকৃত পদ ১৩০টি ,রয়েছে ৭৬টি ও শুন্য রয়েছে ৫৪টি। বিশাল জনবল সংকটের ফলে জেলায় অবস্থিত সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তারা রয়েছেন মহা সমস্যায়। সরকারি পদ পর্যায়ক্রমে শুন্য হওয়ার সুযোগে স্বেচ্ছাসেবকসহ বিভিন্ন নামে বহিরাগতরা সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের এক প্রকার জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। জনবল শুন্যতার সুযোগে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল এক প্রকার নিয়ন্ত্রন করতে দেখা যায় বহিরাগত স্বেচ্ছাসেবকদের। যারা প্রতিদিন স্বাস্থ্য এই প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসা নিতে আসা বিভিন্ন রোগীদের কাছ থেকে কৌশল অবলম্বন করে হাতিয়ে নেয় তাদের শেষ সম্বল টুকু। যার ফলে স্বাস্থ্য সেবার মান নিয়ে সব শ্রেনী মানুষের মাঝে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। জনবল শুন্যতার ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানার সাথে আলাপ কালে তিনি সাংবাদিকদের জানান,জনবল শুন্যতার ব্যাপারে প্রতিমাসে মন্ত্রনালয় প্রতিবেদন পাঠানো হয়।



