ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে নাসিরের মাদক সা¤্রাজ্য

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা নগরীর মিয়াপাড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর অভিযান চালিয়ে প্রায় চার হাজার পিস ইয়াবাসহ নাসির উদ্দীন সেন্টুকে গ্রেফতার করে র্যাব।
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পুঁটিখালী গ্রামের নাসির উদ্দীন সেন্টু (৩৭), তার স্ত্রী সাফিয়া বেগম (৩২) এবং কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী গ্রামের মারিয়াম (২০) ও আয়শা। সেন্টু ও সাফিয়া বর্তমানে খুলনা সদর থানার মিয়াপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত নাসির উদ্দীন সেন্টু দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি ও ভুয়া মিডিয়া সেলের নাম ভাঙিয়ে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন। তার কাছ থেকে ‘বিএনপি মিডিয়া সেল’-এর একটি পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, সেন্টু খুলনার বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রতিনিধি নিয়োগের নামে বাণিজ্য চালিয়ে আসছিলেন। ভুয়া প্রতিনিধি কার্ড দেওয়ার বিনিময়ে তিনি জনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়া তিনি খুলনা টাউন ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক পরিচয় দিতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে খুলনা জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জিয়া প্রজন্ম দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দাবি করতেন। এছাড়া সে খুলনা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে ছবি তুলে তাদের কাছের লোক হিসেবে নিজেকে জাহির করতেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগও রয়েছে।
তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকা-ের স্পষ্ট অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি ইতোমধ্যে এস এম নাসির উদ্দীন সেন্টুকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুয়া পরিচয় ও প্রতিনিধি নিয়োগ বাণিজ্যের আড়ালে সেন্টুর মূল ব্যবসা ছিল কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এনে খুলনায় বিক্রি করা। উখিয়ার বাসিন্দা মারিয়াম ও আয়শার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান এনে তিনি খুলনায় বিক্রি করতেন। মাদকের এই অবৈধ কারবার চালিয়ে সম্প্রতি তিনি রাতারাতি একাধিক গাড়ীসহ বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হন এবং দুটি মাইক্রোবাস কেনেন বলেও চাউর রয়েছে।
র্যাব-৬ জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে এই চক্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ তালিকাভুক্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।



