শীর্ষে থাকলেও খুলনার দুই স্কুলে পাশ করেনি কেউ

এসএসসি পরীক্ষার ফল
স্টাফ রিপোর্টার : যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হারে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে খুলনা জেলা। আর দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে যশোর। সোমবার (১০ আগস্ট) যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস. এম. হোসেন আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে, খুলনা নগরীর আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেউ পাশ করেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা নগরীর আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। অথচ এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে অংশ নিয়েছিলেন মাত্র দুই শিক্ষার্থী। তাদের কেউই পাস করতে পারেননি। একই চিত্র খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। মানবিক বিভাগ থেকে চার শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক রয়েছেন নয়জন।
এসএসসির ফল প্রকাশের পর জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যখন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, তখন এই দুটি বিদ্যালয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার খুলনা জেলার ৩৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০ হাজার ৭৩৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে ১৪ হাজার ৪২১ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। জেলার মাত্র দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
ফল প্রকাশের পর আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ ছিল। পরে মোবাইল ফোনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ে মোট ১৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। বিদ্যালয়টি নন-এমপিওভুক্ত হলেও শিক্ষকরা মনোযোগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ান। তিনি বলেন, ‘এবার এসএসসি পরীক্ষায় দুজন অংশ নিয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুজনই ফেল করেছে।’
অন্যদিকে ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নের কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে চার শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম সরদার বলেন, ‘আজকাল ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করে না। এ কারণেই তারা ফেল করেছে। বিদ্যালয়ে নয়জন শিক্ষক রয়েছেন। তাদের কোনো ত্রুটি ছিল না। স্কুলে ও বাড়িতে যদি না পড়ে, তাহলে আপনি পাস করাবেন কীভাবে?’
প্রকাশিত ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় খুলনা জেলা থেকে ৫৪টি কেন্দ্রে ৩৯৩ প্রতিষ্ঠানের ২০ হাজার ৭৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছে ১৪ হাজার ৪২১ জন। যা পাসের হারে ৬৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এটিই বোর্ডের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করা যশোর জেলায় ৫৩টি কেন্দ্রে ৪৯৫টি প্রতিষ্ঠানের ২১ হাজার ৯০৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এতে পাস করেছে ১৫ হাজার ১১৮ জন।
এছাড়া বাগেরহাট জেলা থেকে ২০ হাজার ৭৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৭ হাজার ৭৫৭ জন, পাসের হার ৬৬ দশমিক ৩৭।
সাতক্ষীরা থেকে অংশ নেয় ১৪ হাজার ২৪৬ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৯ হাজার ৪৪৩ শিক্ষার্থী, পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।
কুষ্টিয়া থেকে অংশ নেওয়া ১৯ হাজার ৯৮২ শিক্ষার্থীর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ১২ হাজার ৫৬৯ জন, পাসের হার ৬২ দশমিক ৯০ শতাংশ।
চুয়াডাঙ্গা থেকে এসএসসিতে অংশ নিয়েছিল ৮ হাজার ৫৯৪ জন। পাস করেছে ৫ হাজার ৯০৪ পরীক্ষার্থী, পাসের হার ৬৮.৭০।
মেহেরপুর থেকে অংশ নিয়েছিল ৬ হাজার ১২৫ শিক্ষার্থী। এরমধ্যে পাস করেছে ৩ হাজার ৯৩৫ জন, পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৪ শতাংশ।
নড়াইল থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল ৬ হাজার ১৯৪ জন। পাস করেছে ৪ হাজার ৩৬ জন। এ জেলায় পাসের হার ৬৫ দশমিক ১৬ শতাংশ।
ঝিনাইদহ থেকে অংশ নেওয়া ১৫ হাজার ৯৬৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ১০ হাজার ৫৪ জন, পাসের হার ৬২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
মাগুড়া জেলা থেকে ৭ হাজার ৪৯৫ জন পরীক্ষার্থী এসএসসিতে অংশ নেয়। এ জেলায় পাস করেছে ৪ হাজার ৮৬০ জন। পাসের হার ৬৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস. এম. হোসেন আলী বলেন, ইংরেজি ও গণিতের কারণে আমাদের ফলাফল খারাপ হয়েছে। যে কারণে পাসের হার কমেছে। তবে প্রতিটি বিষয়েই ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। একই ভাবে জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি।
তিনি বলেন, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা ও নির্ধারিত নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। সংখ্যার চেয়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই বোর্ডের লক্ষ্য। ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য খাতা পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীকাল থেকে টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে।


