অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং উৎপাদনের চাকা সচল রাখতে নারী শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য-এডভোকেট আতিকুর রহমান

খুলনায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পেশা ভিত্তিক নারী শ্রমিক প্রতিনিধি সমাবেশ
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং উৎপাদনের চাকা সচল রাখতে নারী শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। তৈরি পোশাক শিল্প, কৃষিভিত্তিক চাতাল শিল্প, গৃহস্থালি কাজ থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কলকারখানায় আজ নারীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, দেশের এই বিশাল নারী শ্রমশক্তি আজও নানা ধরনের বৈষম্য, শোষণ, নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার। সম্প্রতি নারী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় নারী শ্রমিক প্রতিনিধিদের অগ্রণী ভুমিকা রাখতে হবে। নারীদের কাজের উপযুক্ত পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং নায্য অধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া একটি সমতাভিত্তিক ও উন্নত সমাজ গঠন সম্ভব নয়। তাই সরকারের পাশাপাশি মালিকপক্ষ ও সচেতন নাগরিক সমাজকে এগিয়ে এসে নারী শ্রমিকদের সুরক্ষায় কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। খুলনা মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহিলা বিভাগের উদ্যোগে নগরীর খালিশপুরস্থ শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট মিলনায়তনে পেশা ভিত্তিক নারী শ্রমিক প্রতিনিধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন। খুলনা মহানগরী সভানেত্রী দোররোশ শাহার লাকীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুফিয়া সুলতানার পরিচালনায় নারী শ্রমিক প্রতিনিধি সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর মাস্টার শফিকুল আলম, কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান সম্পাদক খান গোলাম রসুল, খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মো. আজিজুর রহমান, টিম সদস্য আল ফিদা হোসেন, খুলনা মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুজ্জামান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা রেজাউন্নেসা, খুলনা জেলা সভানেত্রী আইনুন নাহার আন্জু। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে খুলনা মহানগরী মহিলা বিভাগের টিম সদস্য মাকসুরা বেগম, সাজেদা বেগম, শাহানা আক্তার, ফিরোজা বেগম, খালিশপুর থানা সভানেত্রী সুফিয়া সুলতানা, দৌলতপুর থানা সভানেত্রী লাইলী বেগম, সোনাডাঙ্গা থানা সভানেত্রী বিলকিস বেগম, হরিণটানা থানা সভানেত্রী আনোয়ারা বেগম, খুলনা সদর থানা সভানেত্রী ফাহমিদা হাজরা জুলু, আড়ংঘাটা থানা সভানেত্রী নাজমুন নাহার নাজমা, লবণচরা থানা সভানেত্রী রহিমা সাখাওয়াত, শ্রমিক নেত্রী সালমা খান, মোশারাত বেগম, কবিতা বেগম, রিনা বেগম, হোসনেয়ারা জাহান, মালেকা বেগম, হেলেনা আক্তার রুনা, আক্তার সালমা, বেগম লুৎফুন্নেসা, রিজিয়া বেগম, তাসলিমা বেগম, শারমিন বেগম, জামিলা পাঠান, হাসিনা বেগম, হোসনেয়ারা বেগম, জান্নাতুল বেগম, রহিমা খাতুন, পারুল বেগম, ফিরোজা বেগম ও রহিমা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা নারী শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা বা প্রণোদনা প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া, কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন সময়ে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য পূর্ণ বেতনে ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করতে হবে। গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান প্রসবের পর পুষ্টিহীনতা রোধে বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মহিলা দর্জি ও গার্মেন্টস শ্রমিকদের মূল বেতন ও মহার্ঘ ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করতে হবে। বিশেষ করে চাতাল শ্রমিকেরা অত্যন্ত অমানবিক পরিবেশে দিনভর কঠোর পরিশ্রম করলেও তাদের মজুরি অত্যন্ত কম। চাতাল শ্রমিকদের নায্য মজুরি নির্ধারণ এবং সব ধরনের হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, গৃহকর্মীরা আমাদের সমাজের একটি অত্যন্ত উপেক্ষিত ও অরক্ষিত অংশ। বাসাবাড়িতে কাজ করতে গিয়ে অসংখ্য নারী গৃহকর্মী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। এ জন্য তিনি ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের পরামর্শ দেন। এর মাধ্যমে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো আদায় করা সম্ভব। সমবেশে মহিলা শ্রমিক নেতারা বলেন, যারা আল্লাহকে ভয় করেন এবং পরকালের মুক্তির আশায় জীবন পরিচালনা করেন, প্রকৃত নির্যাতিত ও নিপীড়িত শ্রমিকদের পাশে আজ তাঁকেই বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে হবে। সমাজে এবং রাষ্ট্রে প্রকৃত ইনসাফ ও একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সকল স্তরে সৎ ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব গড়ে তোলা আজ সময়ের দাবি। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও অধিকার আদায়ে কেবল আইনি লড়াই কিংবা রাজনৈতিক বাদানুবাদ যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন ব্যক্তিগত সততা, খোদাভীতি এবং নৈতিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ। নৈতিক ও আদর্শিক ভিত্তি ছাড়া কখনো স্থায়ী ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তাই দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল সচেতন নাগরিককে মহিলা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে এবং একটি বৈষম্যহীন ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।


