স্থানীয় সংবাদ

এসএসসিতে যশোর বোর্ডে পাসের হার ৬৬.২৭%

জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪শ’ ৭৮ শিক্ষার্থী
শতভাগ ফেল প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১১টি

মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি ঃ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর যশোর শিক্ষা বোর্ড জুড়ে বইছে আনন্দের আমেজ। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী। ফল প্রকাশের পর জিপিএ ও পাশ করা শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দেখা গেছে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। যশোর শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবছর ১ লাখ ৩২ হাজার ৯শ’ ৪০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৮ হাজার ৯৭ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৩৪ হাজার ১৭ জন, মানবিক বিভাগে ৪৪ হাজার ৮৩৪ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৯ হাজার ২৪৬ জন। জিপিএ-৫ পাওয়া ১১ হাজার ৪৭৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ছেলে ৪ হাজার ৮০৯ ও মেয়ে ৫ হাজার ৩২৭ জন; মানবিক বিভাগে ছেলে ১৭৯ ও মেয়ে ৭৯২ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছেলে ১৩৯ ও মেয়ে ২৩২ জন। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে। গত বছর যশোর বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫ হাজার ৪১০ জন। যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর আব্দুল মতিন বলেন, শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের যথার্থ মূল্যায়ন হয়েছে। অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বোর্ড বেরিয়ে এসেছে। ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার কারণে পাসের হার কিছুটা কমলেও ফলাফল সন্তোষজনক। এদিকে এবার ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল দুটি। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান বোর্ড সচিব। ফল প্রকাশের পর ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। যশোরসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলার বিদ্যালয়গুলোতে চলছে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বিনিময়। কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি; সাফল্যের আনন্দে মুখর হয়ে উঠেছে শিক্ষাঙ্গন। এমন অবস্থা দেখে অনেকে হতবাক হয়ে তাদের সাথে যোগ দিয়েছে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে।
শতভাগ ফেল প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১১টি : সোমবার ১০ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড যশোরে চলতি বছরে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ ফেল করার প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১১টি। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস.এম. হোসেন আলী এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান,শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে,সাতক্ষীরা জেলার সদরের সাতক্ষীরা নাইশা সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাশ করেনি। এছাড়াও যশোর মনিরামপুর উপজেলার হেলাঞ্চী কৃষ্ণবাটি সেকেন্ডারি গালর্ষ স্কুলে ১জন, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার কাতেঙ্গা সেকেন্ডারি স্কুলে ৪জন, বাগেরহাট জেলার শরনখোলা উপজেলার ডি.এন. একতা গার্লস হাই স্কুলে ২জন, এ জেলায় আশাশুনি উপজেলার গোদারা সেকেন্ডারি স্কুলে ৪জন, খুলনা জেলার খালিশপুর উপজেলার আসমা সারওয়ার ইসলামিক হাইস্কুলে ৪জন, যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার চান্দুয়া সমোসকাটি গার্লস হাই স্কুলে ৩জন, এ জেলার শার্শা উপজেলার সাড়াতলা জুনিয়র গার্লস হাই স্কুলে ২জন, সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার বাবুরাবাদ ধাপুখালি সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ৪জন, যশোর জেলার শার্শা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা জি.কে.জি.এস সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল থেকে ১জন ও সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার সাহেবখালি সিদ্দিক গার্লস সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ৪জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাশ করতে পারেনি। শতভাগ ফেল এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনা হবে কিনা এ ব্যাপারে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস.এম. হোসেন আলীর কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করা কালে তিনি জানান,প্রথমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তারপর পাঠদানে উপযোগী কিনা সে ব্যাপারে পরবর্তীতে পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
পাসের হার ও জিপিএ-৫-এ এগিয়ে মেয়েরা ঃ এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। এ বছর ছাত্রীদের পাসের হার ৭২ দশমিক ৬৪ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৮ হাজার ৯৭ জন। এর মধ্যে ৬৬ হাজার ৭১৭ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪৮ হাজার ৪৬৩ জন। অন্যদিকে ৬৬ হাজার ২২৩ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছে ৩৯ হাজার ৬৩৪ জন। বোর্ডে এবার মোট ১১ হাজার ৪৭৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রী ৬ হাজার ৩৫১ জন এবং ছাত্র ৫ হাজার ১২৭ জন। বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে মেয়েদের পাসের হার ৮৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ, ছেলেদের ৮৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। মানবিক বিভাগে মেয়েদের পাসের হার ৬৪ দশমিক ১৯ শতাংশ, ছেলেদের ৪৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মেয়েদের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ, ছেলেদের ৬৬ দশমিক ০৭ শতাংশ। যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর আব্দুল মতিন বলেন, কয়েক বছর ধরে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ভালো ফল করছে। ছেলেদের একটি বড় অংশ এসএসসি পাসের আগেই ঝরে পড়ছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বোর্ডও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button