খুলনায় দাদীকে হত্যা করা নাতির যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনায় নেশার টাকা ও সম্পত্তির লোভে দাদী নুর জাহান ওরফে খানো বিবিকে হত্যার দায়ে মো. খলিল মোড়ল ওরফে ইরফানকে (২১) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইমাম এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী (উচ্চমান সহকারী) মো. মাজাহারুল ইসলাম। দ-প্রাপ্ত ইরফান পাইকগাছা উপজেলার শ্রীকণ্ঠপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. কামরুল মোড়লের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, ইরফান খুলনা বিএল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিহত নুর জাহান ওরফে খানো বিবি তার দাদী। পারিবারিক সম্পত্তি নাতির নামে লিখে দেওয়ার জন্য ইরফানের মা ফাতেমা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিতেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কয়েক দফা পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী হলেও ইরফান মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। মাদকের টাকা না পেলে তিনি প্রায়ই দাদিকে মারধর করতেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়ত। একপর্যায়ে ইরফানের বাবা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে তার মা তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর সকালে মাদকের টাকা জোগাড় করতে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন ইরফান। তার দাদী এতে বাঁধা দেন। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে ডাব পাড়ার জন্য গাছে উঠলেও দাদী তাকে বাধা দেন। এর কিছুক্ষণ পর, দুপুর দেড়টার দিকে বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে ধারালো দা দিয়ে দাদিকে আঘাত করে পালিয়ে যান তিনি। পরে ঘটনাস্থলেই নুর জাহানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফুলি বেগম বাদী হয়ে ওই দিন আদালতে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (অপারেশন) দেবাশীষ দাশ মো. খলিল মোড়ল ওরফে ইরফানকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র দায়রা জজ মোশিউর রহমান চৌধুরীর আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলাটি খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার আদালত ইরফানকে দাদিকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- দেন। পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদ-ের আদেশ দেওয়া হয়।


