খানজাহান আলী থানা এলাকার সরকারি ও বেসরকারি স্কুল গুলোর ফলাফল বিপর্যয়, অভিভাবক হতাশ ও উদ্বিগ্ন : শতভাগ পাস করতে পারেনি কোন স্কুল

# সদ্য ঘোষিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে #
# ভালো করেছে আরআরএফ সেকেন্ডারি স্কুল ৯৩%
খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি ঃ এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ সালের সদ্য ঘোষিত ফলাফলে খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী থানা এলাকার সরকারি ও বেসরকারি স্কুল গুলোতে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স সেকেন্ডারি স্কুল খুলনা থেকে ৯৩% পাস করে পাশের তালিকা শীর্ষে রয়েছে অপরদিকে সোনালী জুট মিলস উচ্চ বিদ্যালয় ৫০% পাশ করে তলানিতে রয়েছে। এ অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলে চরম বিপর্যয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মাঝে হতাশা বিরাজ করতে দেখা গেছে একই সাথে তাদের সন্তানের আগামীর ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। সচেতন অভিভাবকরা ফলাফলের চরম বিপর্যায়ের কারণ হিসাবে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে অদক্ষ প্রধান শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক অভাব, বিদ্যালয়ে শ্রেণী পাঠদানের থেকে কোচিং বাণিজ্যে বেশি মনোযোগী হওয়া, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সমন্বয়ে কাউন্সেলিং এর অভাব সহ বিভিন্ন কারণে চিহ্নিত করে এই বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে দাবী করছে। সদ্য ঘোষিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিদ্যালয় সূত্রগুলো থেকে জানা যায় খানজাহান আলী থানার ফুলবাড়িগেট এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সরকারি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় গুলোর মধ্যে থেকে এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাস করতে পারেনি কোন প্রতিষ্ঠান থেকে। এরমধ্যে তুলনামূলকভাবে রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স সেকেন্ডারি স্কুল খুলনার শিক্ষার্থীরা সব থেকে ভালো রেজাল্ট করেছে। বিদ্যালয়টি থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল ৪৩ জন, তারমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ জন এবং ফেল করেছে ৩ জন। পাশের হার ৯৩%। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে খুলনা গভঃ ল্যাবরেটরী হাই স্কুল। এ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী ছিল ১৪১ জন এরমধ্যে জিপিএ ৫ – পেয়েছে ৬৩ জন, ফেল করেছে ১৭ জন, প্রতিষ্ঠানটির পাশের হার ৮৭%।
তারপরে আছে কেডিএ খানজাহান আলী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় তাদের পরীক্ষার্থী ছিল ১০৬ জন এরমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ জন ফেল করেছে ১৯ জন, পাশের হার ৭৯%। তারপরে আছে খানাবাড়ি গার্লস হাই স্কুল তাদের পরীক্ষার্থী ছিল ৩৪ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন, ফেল করেছে ৮ জন পাশের হার ৭৭%। তারপর আছে খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল মোট ৮২ জন এরমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন ফেল করেছে ২৫ জন, পাশের হার ৭০%। ফুলবাড়ী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এই প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল ৯১ জন এর মধ্যে জিপিএ-৫ নাই, অনুপস্থিত এবং ফেল আছে ৩৭ জন পাশের হার ৫১% এবং সোনালী জুট মিলস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল ১২ জন, জিপিএ-৫ নাই, ফেল ৬ জন, পাশের হার ৫০%।
এই অঞ্চলে বিদ্যালয় গুলোর এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাস না করায় এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে চরম বিপর্যয় নেমে আসায় হতাশায় পড়েছেন বিদ্যালয় গুলোতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ। পরিসংখ্যান বলছে ২০২৬ এ অঞ্চলের ৭টি সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কোনো প্রতিষ্ঠানই শতভাগ শিক্ষার্থীকে পাস করাতে পারেনি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৭টি প্রতিষ্ঠানে মোট ৫০৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ১২৭ জন শিক্ষার্থী ফেল অথবা অনুপস্থিত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য থেকে জানা গেছে। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় চার ভাগের এক ভাগ পরীক্ষার্থী সফলভাবে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী সুনামধন্য বিদ্যালয়ে হঠাৎ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য প্রশ্ন ওঠে সমস্যাটি কি শিক্ষার্থীর? নাকি বিদ্যালয়ের একাডেমিক ব্যবস্থাপনা দায়ী? অভিভাবকদের একটি অংশের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের তুলনায় কোথাও কোথাও কোচিং বা পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রস্তুতির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ অভিযোগ সত্য হলে সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ শিক্ষার মূল জায়গা হলো শ্রেণিকক্ষ। কোচিং কখনোই বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদানের বিকল্প হওয়ার কথা নয়। তাছাড়া এখানে প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা কি? একটি বিদ্যালয়ের ফলাফল প্রধান শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠান প্রধানের একাডেমিক নেতৃত্ব এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেন একজন কার্যকর প্রতিষ্ঠানপ্রধানের দায়িত্বের মধ্যে শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান পর্যবেক্ষণ, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, দুর্বল শিক্ষার্থী শনাক্ত করা, বিষয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করা, শিক্ষক-অভিভাবক সমন্বয় করা, শিক্ষকদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন এবং এসএসসি ফলাফল পর্যালোচনা করে পরবর্তী বছরের পরিকল্পনা তৈরি করা। এগুলো নিয়মিত সঠিকভাবে তদারকি করছে কিনা তা খতিয়ে দেখার প্রশ্ন উঠেছে অভিভাবকদের মাঝ থেকে। বিদ্যালয় গুলোতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে শুধু হতাশার কারণ হয়ে থাকবে, নাকি শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য একটি কার্যকর পরিবর্তনের সূচনা করবে। এ বিষয়ে যথাযথ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন অভিভাক মহল।



