খুলনা বিভাগে হামের ৯২৩৭ সন্দেহজনক রোগী : নিশ্চিত ৩৫৮

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা বিভাগে হামের পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সরকারি হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে ১৩ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট ৯ হাজার ২৩৭ জনকে সন্দেহজনক হামের রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ৮ হাজার ৭৮৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৮ হাজার ৫০৬ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। একই সময়ে ৩৫৮ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। তবে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের ১৩ আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৫২ জন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক বা নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর তথ্য নেই। কুষ্টিয়ায় সন্দেহজনক রোগী সবচেয়ে বেশি :
১৫ মার্চ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত পরিসংখ্যানে খুলনা বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে কুষ্টিয়ায় সন্দেহজনক হামের রোগী সবচেয়ে বেশিÑ২ হাজার ৩২২ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ৩২২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ২ হাজার ২৭৯ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। কুষ্টিয়ায় ২৩ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এরপর রয়েছে খুলনা জেলা, যেখানে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৪৭৯ জন। এ জেলায় ১ হাজার ৪৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি এবং ১ হাজার ৪২৯ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। নিশ্চিত হামের রোগী ৪৭ জন। মাগুরায় সন্দেহজনক রোগী ১ হাজার ৩৮৮ জন, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩২৮ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ২২৪ জন। নিশ্চিত হামের রোগী ২৭ জন। যশোরে সন্দেহজনক রোগী ৮৪৬ জন, হাসপাতালে ভর্তি ৬৫২ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬৬৩ জন। নিশ্চিত হামের রোগী ৫৮ জন। ঝিনাইদহে সন্দেহজনক রোগী ৭৭০ জন এবং নিশ্চিত রোগী ১৭ জন। নড়াইলে সন্দেহজনক রোগী ৬০৫ জন এবং নিশ্চিত রোগী ৭৮ জন।
মেহেরপুরে সন্দেহজনক রোগী ৫৭৭ জন এবং নিশ্চিত রোগী ১০ জন। বাগেরহাটে সন্দেহজনক রোগী ৫১১ জন এবং নিশ্চিত রোগী ৭৪ জন। চুয়াডাঙ্গায় সন্দেহজনক রোগী ৫০২ জন এবং নিশ্চিত রোগী ১ জন। সাতক্ষীরায় সন্দেহজনক রোগী ২৩৭ জন এবং নিশ্চিত রোগী ২৪ জন।
সন্দেহজনক হামে ৩৩ মৃত্যুর তথ্য :
প্রতিবেদনে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের ক্ষেত্রে মোট ৩৩ জনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় ১৬ জন, কুষ্টিয়ায় ১৩ জন, ঝিনাইদহে ২ জন এবং মেহেরপুরে ১ জন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব মৃত্যুকে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। কারণ প্রতিবেদনের ‘নিশ্চিত হাম’ অংশে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য দেখানো হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় সর্বোচ্চ :
গত ২৪ ঘণ্টার হিসাবে খুলনা ও কুষ্টিয়ায় সর্বোচ্চ ১২ জন করে সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছেন। মাগুরায় ১১ জন, ঝিনাইদহে ৭ জন, নড়াইলে ৫ জন, বাগেরহাটে ৩ জন এবং চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে ১ জন করে রোগী শনাক্ত হয়েছেন। যশোর ও সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫২ জন সন্দেহজনক হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৫৩ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ সময়ে সন্দেহজনক হামে কোনো মৃত্যু হয়নি এবং নতুন করে কোনো রোগীর হাম নিশ্চিত হওয়ার তথ্যও নেই।


