পাইকগাছায় ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে এক অসহায় নারীর সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার পাইকগাছার পল্লীতে চিহ্নিত ভূমিদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগষ্ট) বেলা ১২ টায় খুলনা প্রেসক্লাবে প্রতিকারের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, অসহায় নারী শিল্পী বেগম। লিখিত বক্তব্য বলা হয়েছে, খুলনা জেলাধীন পাইকগাছার বিজ্ঞানি পিসি রায়ের বংশধরদের ৮ একর ১২ শতক জমি এক সময় খুলনা সাব-জজ ৪র্থ আদালত থেকে নিলামে ওঠে। উক্ত জমি আইনানুযায়ী ক্রয় করেন অমূল্য বসু। পরবর্তীতে অমূল্য বসুর কাছ থেকে বৈধভাবে আমমোক্তারনামা গ্রহণ করেন ভুক্তভোগী নারী শিল্পী বেগগের পরিবারের আকমান আলী গোলদার। কিন্তু জমিটি সরকারিভাবে রেকর্ড না হওয়ায় জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের সি আর তা রেকর্ডভুক্ত করে নেয়। এই অন্যায় রেকর্ডের বিরুদ্ধে আকমান আলী গোলদার মহামান্য হাইকোর্টে রিট আপিল দায়ের করেন। হাইকোর্ট ২০০৭ সালের ২০ জানুয়ারি মাসের একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট উক্ত রুল চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের ডিসিআর প্রদানসহ সকল কার্যক্রম স্থগিতাধ্যেশ বহাল রাখেন। অর্থাৎ, জমিটির বিষয়ে আদালত থেকে সুস্পষ্ট স্থগিতাদেশ বিদ্যমান রয়েছে এবং মামলাটি বিচারাধীন।
আইন ও মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এলাকাভিত্তিক একটি প্রভাবশালী ও সশস্ত্র দখলদার চক্র উক্ত সম্পত্তি জবরদখল শুরু করেছে। আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় ৮ একর ১২ শতক জমির মধ্য থেকে ৬ একর ৯৩ শতক জমি জবেদ মোড়ল ও তার সঙ্গীরা গায়ের জোরে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে দখল করে নেয়। অবশিষ্ট ১ একর ১৯ শতক জমির ওপর আমাদের বসতবাড়ি ও পুকুর রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, চলমান মামলার স্থগিতাধ্যেশ অমান্য করে ওই তৃতীয় পক্ষটি সম্প্রতি আমার পুকুরের মাছ লুট করে পুরো জায়গাটি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তারা আমাকে ভিটেমাটি ছাড়া করার জন্য প্রতিনিয়ত সরাসরি ও মৌখিকভাবে প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, ভুক্তভোগীর নামীয় ৩০ শতক জমির ওপর ১৯৬৭-৬৮ সাল থেকে তাদের বৈধ ডিসিআর থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষরা জোরপূর্বক পাকা ঘরবাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। তারা খনন করা পুকুর, ঘরবাড়ি এবং পুকুরের মাছসহ সমস্ত কিছু জোরপূর্বক দখল করে নেয়। আইন অমান্য করে এই সন্ত্রাসী ও জবরদখল প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিয়েছে-মো. জবেদ মোড়ল, মো. ছাত্তার মোড়ল, মো. ইসলাম গাজী, মো. খালেক গোলদার, মো. রফিকুল গাজী রফিক, মো. হামিদ গাজী, হান্নান গোলদার, ফারুক মোড়ল, সাদ্দাম মোড়ল,, ইউনুচ গোলদার ও আনিচ গোলদারসহ তাদের সশস্ত্র বাহিনী। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও কোন ক্ষমতার জোরে এসব ভূমিদস্যুরা বসতবাড়ি ভেঙে মাছ লুট করে জমি দখল করে নেয়-তা আজ প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন। অসহায় ও ভুক্তভোগী এই নারী পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।


