ডেঙ্গু’র প্রকোপে হাসপাতালে রোগীর বাড়তি চাপ

# কেসিসি’র ওয়ার্ড গুলোতে ক্রাসপ্রোগ্রাম ঘোষনা
# ২৪ ঘন্টায় ৪৫ জন রোগী ভর্তি
শেখ ফেরদৌস রহমান ঃ ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় খুলনায় হাসপাতাল গুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য জরুরী চিকিৎসা সেবা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি কেসিসি কর্তৃক নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করেছে। যার মধ্যে ১,২,৩,৫,১০,১২,১৫ ও ১৬ নাম্বার ওয়ার্ডকে জোন-এ। পাশাপাশি ১৭,১৮,১৯,২০,২৪,২৫,২৬,২৭ নং ওয়ার্ডকে জোন-বি ও ২১,২২,২৩,২৮,২৯,৩০ ও ৩১ নং ওয়ার্ডকে জোন-সি ঘোষনা করেন কেসিসি’র জরুরী সভায়। এছাড়া বুধবার ২৪ ঘন্টায় খুলনা বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে ৪৫ জন নতুন ভাবে আক্রান্ত ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। এদিকে এবছর খুলনায় এপর্যন্ত ৭৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। যার মধ্যে ৬১৯ জন রোগী ইতোমধ্যে চিকিৎসা সেবা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে বাড়ী ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগ। পাশাপাশি এখনও পর্যন্ত ১৩৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা চলমান রয়েছেন। সরেজমিনে দেখা যায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুর রোগীর সংখ্যা বেশি অনেকে শয্যা না পেয়ে বারান্দায় সেবা নিচ্ছে। এ বিষয়ে কথা হয় ভুক্তভোগী সাদিকের আম্মা সুমা বেগমের সাথে তিনি বলেন, আমার ছেলেটার বয়স বারো বছর ঠিক মত হাঁটা চলা করতে পারেনা। হঠাৎ তার শরিরে প্রচন্ড জ¦র ১০২ থেকে ১০৩ পর্যন্ত এরপর ডেঙ্গু পরিক্ষা করার পর সনাক্ত হয় তার ডেঙ্গু জ¦র হয়েছে। আমরা বর্তমান খুমেক হাসপাতালে ৪র্থ তলায় -২ নং বেডে চিকিৎসাধীন আছে। গেল মঙ্গলবার রাত্রে হঠাৎ কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, আপনার ছেলের বর্তমান প্লাটিলেট ৮৯ হাজার নেমে গেছে। আপনার ছেলেকে এখানে সেবা নিতে হলে আপনাদের লিখিত দিতে হবে। যেকোন সময়ে ছেলের পিসিইউ প্রয়োজন হবে যার সাপোর্ট আমাদের হাসপাতালে নেই। আপনি পিআইসিইউ সাপোর্ট রাখতে পারেন। আমি খুব চিন্তিত এখনও আমার ছেলেকে নিয়ে । এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে এই ডেঙ্গু’র প্রকোপ বাড়ছে । এ দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিরোধে কেসিসি কর্তৃক গতকালের জরুরী সভায় নাগরীকদের সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় ধর্মীয় উপসনালায় মসজিদের ইমাম সাহেব, মন্দীরের পূরোহীত, ফাদারদের দ্বারা জনসচেতনতার পাশাপাশি লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম চলবে। পাশাপাশি, মশা নিধনের কেসিসি’র নিয়মিত কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। ডেঙ্গু আকান্ত বিভিন্ন এলাকা চিহ্নিত করে মশা নিধন ওষুধ ফগার;স্প্রে ফগিং করা হচ্ছে। এছাড়া বাড়ীর আশে পাশে স্থপনার বা সীমানার মধ্যে মশা প্রজনন লার্ভা পাওয়া গেলে তাকে তাৎক্ষনিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে, বিষয়টি নিয়ে খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডাঃ মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন,আমরা বিভিন্ন উপজেলা পযন্ত ডেঙ্গু রোগীর পরিক্ষা ফ্রি করেছি।পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান আছে। আমরা নিয়মিত খুলনা বিভাগে বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করছি। এছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের আমরা বিশেষ ভাবে পর্যবেক্ষন করছি।চলতি মাসে এখন পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ২৯শ’ ১৫ জন রোগীর মধ্যে ১০ জন মারা গেছে২৪শ ৯০ জন রোগী সুস্থ্য হয়ে বাড়ী ফিরেছেন তবে, এখনও ৩৭৮ জন রোগী হাসপাতালে সেবা নিচ্ছে।

