স্থানীয় সংবাদ

নাজমুল হত্যার প্রতিশোধে মঞ্জুরুলকে বাবার সামনে গুলি- কুপিয়ে হত্যা :গ্রেপ্তার ‘বি’ কোম্পানীর সদস্য সাইফি-রাকিব

# র‌্যাবের প্রেসবিফ্রিং #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ এক হত্যার প্রতিশোধে আরেক হত্যাকা-Ñখুলনার হরিণটানার ৮০ বিঘায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত জোড়া হত্যার ভয়ংকর রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে র‌্যাব। নাজমুলকে কুপিয়ে হত্যার পর প্রতিশোধের আগুনে সশস্ত্র হয়ে ৮০ বিঘায় ছুটে যায় ১৫-১৬ জনের একটি দল। সেখানে প্রতিপক্ষের মঞ্জুরুল ইসলামকে তার বাবার সামনেই গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আলোচিত এ জোড়া হত্যাকা-ের ঘটনায় কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী আলামিন হাসান সাইফি ও তার সহযোগী রাফিকুল ইসলাম রাকিবকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৬।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনা র‌্যাব-৬ সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ।
র‌্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফি ও রাকিব হত্যাকা-ে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের চিত্র। আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা এবং শক্তিমত্তা প্রদর্শনের অসুস্থ প্রতিযোগিতাই শেষ পর্যন্ত দুই তরুণের প্রাণ কেড়ে নেয় বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে র‌্যাব।
গত ১৯ আগস্ট খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন হরিণটানার ৮০ বিঘা এলাকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় মো. নাজমুল (১৮) ও মো. মঞ্জুরুল ইসলামকে (২৩)। নাজমুলকে কুপিয়ে হত্যার পরপরই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। কিছু সময়ের ব্যবধানে একই এলাকায় মঞ্জুরুলকেও গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পরপরই র‌্যাব-৬-এর একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ ও পর্যালোচনার পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে খুলনার টুটপাড়া এলাকার কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী আলামিন হাসান সাইফি ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানায় র‌্যাব।
এরপর সাইফিকে গ্রেপ্তারে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে গত ২১ আগস্ট গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন মাঝিগাতী রাজার এলাকা থেকে সাইফি ও তার সহযোগী রাফিকুল ইসলাম রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র‌্যাব জানায়, সাইফির ভাষ্য অনুযায়ী নিহত নাজমুল তাদের গ্রুপের সদস্য ছিল। অপরদিকে নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম প্রতিপক্ষের একটি গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে সাইফি দাবি করেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে সাইফি আরও জানায়, তাদের দলের সদস্য নাজমুলকে রফিক নামের এক ব্যক্তি আটক করে ভিডিও কলে রেখে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে সাইফি ও তার দলের ১৫-১৬ জন সদস্য আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ৮০ বিঘা এলাকায় যায়। সেখানে মঞ্জুরুলকে সামনে পেয়ে তার বাবার উপস্থিতিতেই তাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
র‌্যাবের প্রাথমিক তদন্তে, দুই গ্রুপের আন্তঃকোন্দল, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা এবং শক্তিমত্তা প্রদর্শনের অসুস্থ প্রতিযোগিতার জেরেই এ জোড়া হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় একটি শর্টগান, একটি পিস্তল ও তিনটি দেশীয় চাপাতি উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৬। জোড়া হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
র‌্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, জোড়া হত্যাকা-ের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং খুব দ্রুত বাকি অভিযুক্তদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button