২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ২১৫ : চলতি বছরে মৃত্যু ১৬

# খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি #
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে ২১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) দপ্তরের ২৪ আগস্ট ডেঙ্গু রোগীর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৪ হাজার ৬০৪ জন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৪২ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৫৭৫ জন এবং এ পর্যন্ত ৭১ জন রোগীকে রেফার্ড করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ২১৫ রোগীর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৮১ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৩৪ জন।
জেলা ও হাসপাতালভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলায় নতুন করে ১১৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৮০ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৩৪ জন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৫৮ জন।
এ ছাড়া বাগেরহাটে ১০ জন, যশোরে ১০ জন, ঝিনাইদহে ১১ জন, সাতক্ষীরায় ৪ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন, মাগুরায় ৩ জন, কুষ্টিয়ায় ১ জন এবং মেহেরপুরে ১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। নড়াইল ও চুয়াডাঙ্গায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো ডেংগু রোগী ভর্তি হননি। চলতি বছরের শুরু থেকে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে খুলনা জেলায়। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৬২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ১৯৮ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন, বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ২৩১ জন এবং ৩১ জনকে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছরে মোট ১ হাজার ৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৯১৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন, ১৪৪ জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিভাগীয় প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, বাগেরহাটে চলতি বছরে মোট ১ হাজার ১১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৭৪ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন, ১০৪ জন বর্তমানে ভর্তি এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোগী শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ডেংগুর বাহক এডিস মশার বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।



