সম্পাদকীয়

জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

# উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে নকলের মহোৎসব #

দূরশিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। বিশেষ করে বয়স, সময় বা সুযোগের অভাবে যাঁরা প্রচলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করতে পারেন না, তাঁদের জন্য শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, প্রতিষ্ঠানটিতে নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা জেঁকে বসেছে। প্রায় প্রতিটি পরীক্ষায় চলছে নকলের মহোৎসব। শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, অভিযোগ রয়েছে শিক্ষকরাও এতে সহযোগিতা করছেন। এ নিয়ে রয়েছে মোটা অবৈধ লেনদেনও। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সব ধরনের পরীক্ষায়ই চলে নকলের মহোৎসব। অনেক কেন্দ্রে শিক্ষকদের সামনেই বই খুলে পরীক্ষা দেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকরাও গাইড থেকে নকল খুঁজে বের করতেও সহায়তা করেন। অনেক কেন্দ্রের শিক্ষকরা দেখেও না দেখার ভান করেন। এভাবে ভালো গ্রেড পেয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের সাফল্যে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ও বাহবা কুড়াচ্ছে। সম্প্রতি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার একটি ডিগ্রি কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের একটি পরীক্ষায় নকল করার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পরীক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে বই দেখে লিখছেন। ওই কক্ষের প্রায় ৩০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই বই দেখে লিখছেন। দুজন শিক্ষক তাঁদের গার্ড দিচ্ছেন, তাঁরা ঘোরাঘুরি করছেন, কিন্তু কিছুই বলছেন না। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। পরীক্ষাকেন্দ্রে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে শিক্ষক বলেন, ‘এরা ১০-২০ বছর ধরে বই দেখেই লিখছে।’ এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার পরই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। ওই কলেজের কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালে নকল প্রতিরোধে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করেন। এবারও তিনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েও নকলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। আমরা আশা করছি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নকলের মহোৎসব বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ধরনের অনৈতিক কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়টির সুনাম পুনরুদ্ধারে অত্যন্ত অপরিহার্য।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button