জাতীয় সংবাদ

রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস নতুন মামলায় গ্রেফতার

প্রবাহ রিপোর্টঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে উত্তরা পশ্চিম ধারার এক প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ আদেশ। এরপর ঢাকার আরেক অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে হরিদাস চন্দ্র তরণীর পক্ষে তার আইনজীবী বাসুদেব গুহ জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তবে শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দেন বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন। ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম গেল ১২ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর রাতেই রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়। রিমান্ড শেষে ১৬ জুলাই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গেল ২৪ অগাস্ট বেসরকারি কোম্পানীর কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণী ও ওবাইদুল ইসলামের নামে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর ২৫ অগাস্ট তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মাসুদ রানা হরিদাস চন্দ্র তরণীকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন মঙ্গলবার। এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেয়। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার বিবরণ থেকে, মাহবুবুর রহমান ও ওবাইদুল ইসলাম কলেজের বন্ধু। তারা উত্তরা ১২ নং সেক্টরে বসবাস করেন। ওবাইদুল তাকে জানান, সে অনয় ডেভেলপার কোম্পানির মালিক। খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় তার অফিস। মাহবুব ওবাইদুলের কাছে নিকুঞ্জ এলাকায় একটা ফ্ল্যাট কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে। ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারী ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ওবাইদুলকে দেন। বাসার কাজ শেষ পর্যায়ে চলে আসায় আরও ১৫ লাখ টাকা চাইলে তা প্রদান করেন। পরবর্তীকালে ওবাইদুল ফ্ল্যাট না দিয়ে ঘোরাতে থাকে। মাহবুব টাকা ফেরক চান। তবে তা ফেরত দেননি ওবাইদুল।
পরে নিকুঞ্জ অফিসে যান মাহবুব। আলাপকালে ওবাইদুল জানান তার ব্যবসায়ীক পার্টনার হরিদাস চন্দ্র তরণী আসতেছে। পরে হরিদাস চন্দ্র তরণী অফিসে গিয়ে তাকে জানান, তার কাছে টাকা নাই, ফ্ল্যাট আছে। ফ্ল্যাট দিতে পারবে। হরিদাস চন্দ্র তরণীর কথায় বিশ্বাস মাহবুব তাকে ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও ৪৫ লাখ টাকা দেন তাকে। তারা দুই জনে সর্বমোট ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা দেয়। তবে তারা তাকে ফ্ল্যাট বুঝে দেননি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button