বৃষ্টি হলেই কাদার রাজ্য : উন্নয়নের ছোঁয়া নেই

# অবহেলিত জনপদ নগরীর মাদানিনগর #
এম সাইফুল ইসলাম ঃ খুলনা মহানগরের উপশহর লবণচরার মাদানি নগর। শহরের অদূরে অবস্থান হলেও বছরের পর বছর অবহেলিত জনপদ হিসেবেই পরিচিত এলাকাটি। লাখো মানুষের বসবাস থাকলেও নেই চলাচলের উপযোগী সড়কসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট পরিণত হয় কাদার সাগরে, দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে রাস্তায় এমন কাদা জমে যে জুতা পরে হাঁটা তো দূরের কথা, খালি পায়েও ঠিকমতো চলাচল করা যায় না। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা। জরুরি প্রয়োজনে কাউকে হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এলাকার বাসিন্দা মোমেনা আক্তার বলেন, “বৃষ্টি হলেই কাদামাটি মেখে চলাচল করতে হয়। জুতা তো দূরের কথা, খালি পায়েও ঠিকমতো হাঁটা যায় না। কেউ অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া যে কত কষ্টের, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। উন্নয়নের কথা শুধু শুনেই গেলাম, কিন্তু চোখে দেখলাম না। কতজন কত প্রতিশ্রুতি দিল, কিন্তু আমাদের রাস্তাঘাটের কোনো উন্নয়ন হলো না। কষ্টের সঙ্গেই আমাদের বসবাস।”
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সড়ক উন্নয়নের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিটি বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে হাজারো পরিবারকে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত মাদানি নগরের সড়ক সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক। শহরের এত কাছে থেকেও যেন তারা আর অবহেলার শিকার না হন। বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, জনগনের দুর্ভোগ নিরসনে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেবো। খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান বলেন, আমার এলাকায় কোন রাস্তা-ই কাঁচা কিংবা ভাঙ্গাচোরা থাকবে না। মাদানিনগরের রাস্তাও আমরা ঠিক করে দেবো খুব শীঘ্রই।



