আজীবন ভোগস্বত্ব রেখে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিল পাস

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগস্বত্ব সংরক্ষণ করে সন্তান, নাতি-নাতনি বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ রেখে ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬ সংশোধিত আকারে জাতীয় সংসদে পাসের সুপারিশ করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। রিপোর্টে বলা হয়, কমিটির বিরোধী দলীয় সদস্যরা বিলটির ওপর ইসলামিক স্কলার ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতামত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। এরপর কমিটি সংশোধিত আকারে বিলটি পাসের সুপারিশ করে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এই বিল পাস হয়। বিলের প্রস্তাবিত ১২২এ ধারায় বলা হয়েছে, কোনও দাতা সম্পত্তির আজীবন ভোগস্বত্ব নিজের কাছে রেখে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দান করলে তা বৈধ হবে। এ ধরনের হস্তান্তর বাবা-মা বা দাদা-দাদি/নানা-নানি থেকে সন্তান বা নাতি-নাতনি, উল্টো দিকেও এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে করা যাবে। স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে এ হস্তান্তর করতে হবে। দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে সম্পত্তি আইন অনুযায়ী গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে যাবে; তবে দাতার আজীবন ভোগস্বত্ব বহাল থাকবে। বিলে আরও বলা হয়েছে, এই পদ্ধতিতে সম্পত্তি হস্তান্তর একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রচলিত গিফট, মুসলিম আইনের হেবা বা অন্য কোনও স্বীকৃত হস্তান্তর পদ্ধতির বৈধতার ওপর এর কোনও প্রভাব পড়বে না। যেসব সংশোধনী সুপারিশ ঃ কমিটি বিলটিতে কয়েকটি সংশোধনী আনার সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘রাইট অব ইউসুফ্রাক্ট’-এর পরিবর্তে ‘দ্য রাইট অব লাইফটাইম এনজয়মেন্ট (লাইফটাইম ইউসুফ্রাক্ট রাইটস)’ শব্দ ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোতে ‘লাইফটাইম’ শব্দ সংযোজন। এ ছাড়া বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতেও ‘লাইফটাইম ইউসুফ্রাক্ট’-এর পরিবর্তে ‘লাইফটাইম ইউসুফ্রাক্ট রাইটস’ ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। বাতিল বা পরিবর্তনের সুযোগ ঃ প্রস্তাবিত ১২২বি ধারায় বলা হয়েছে, নিবন্ধনের পর এ ধরনের দান সাধারণভাবে অপরিবর্তনীয় থাকবে। তবে দাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতিতে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক বা অন্য কোনো প্রকৃত প্রয়োজনের কারণে তা পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে। কোনো পক্ষ নাবালক, নিখোঁজ, মানসিকভাবে অসুস্থ, আইনগতভাবে অক্ষম বা অন্য কোনো যথেষ্ট কারণে সম্মতি দিতে না পারলে জেলা জজ প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দিয়ে এ বিষয়ে আদেশ দিতে পারবেন। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগস্বত্ব সংরক্ষণ করে দানের বিষয়ে বিদ্যমান আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। রক্তসম্পর্কীয় নির্দিষ্ট স্বজন এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে দাতার স্বার্থ সীমিতভাবে সুরক্ষিত রাখতেই নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই নতুন ব্যবস্থা সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে এবং প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের হেবা বা অন্য কোনো স্বীকৃত সম্পত্তি হস্তান্তর ব্যবস্থার ওপর কোনও প্রভাব ফেলবে না।



