মহানবীর (সা.) বৈষম্যের দেয়াল ভেঙে নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে পূর্ণ মর্যাদা নিশ্চিত করেছিল : অধ্যাপক হারুনুর রশীদ খান

# খুলনায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহিলা বিভাগের সিরাত আলোচনা #
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা অধ্যাপক হারুনুর রশীদ খান বলেছেন, ১৪০০ বছর আগেই ইসলাম নারীদের এবং বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের যে মর্যাদা ও অধিকার দিয়েছে, তা বর্তমান আধুনিক শ্রমবাজারের আইনি কাঠামোর চেয়েও অনেক বেশি প্রগতিশীল ও মানবিক। রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু নারীদের প্রতি সদয় হওয়ার নির্দেশই দেননি, বরং তাদের কর্মঘণ্টা, পারিশ্রমিক এবং কর্মপরিবেশের সুরক্ষার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রদান করেছেন। তৎকালীন আরব সমাজে নারী ও শ্রমিকরা চরম অবমূল্যায়নের শিকার হতো। ইসলাম ও মহানবীর (সা.) বিপ্লব সেই বৈষম্যের দেয়াল ভেঙে নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা, উত্তরাধিকারের অধিকার এবং কর্মক্ষেত্রে পূর্ণ মর্যাদা নিশ্চিত করেছিল। নগরীর খালিশপুর বিআইডিসি রোডে অবস্থিত শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট মিলনায়তনে সিরাতুন্নবী সা. উদযাপন উপলক্ষে খুলনা মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহিলা বিভাগের উদ্যোগে ‘নারী শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় রাসুল (সা.) এর নীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
খুলনা মহানগরী সভানেত্রী দোররোশ শাহার লাকীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদিকা সুফিয়া সুলতানার পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান সম্পাদক খান গোলাম রসুল, খুলনা মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুজ্জামান। আলোচনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরী মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি শামসুন্নাহার, খুলনা জেলা মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি অধ্যাপিকা আইনুন নাহার আন্জু, মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারশনের সাবেক সভানেত্রী সারাবান তহুরা, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সাতক্ষীরা সভানেত্রী আকলিমা বেগম, খুলনা মহানগরী আইটি দায়িত্বশীলা তানজিলা বেগম। এতে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগরী মহিলা বিভাগের টিম সদস্য মাকসুরা বেগম, সাজেদা বেগম, শাহানা আক্তার, ফিরোজা বেগম, খালিশপুর থানা সভানেত্রী সুফিয়া সুলতানা, দৌলতপুর থানা সভানেত্রী লাইলী বেগম, সোনাডাঙ্গা থানা সভানেত্রী বিলকিস বেগম, হরিণটানা থানা সভানেত্রী আনোয়ারা বেগম, খুলনা সদর থানা সভানেত্রী ফাহমিদা হাজরা জুলু, আড়ংঘাটা থানা সভানেত্রী নাজমুন নাহার নাজমা, লবণচরা থানা সভানেত্রী রহিমা সাখাওয়াত, শ্রমিক নেত্রী সালমা খান, মোশারাত বেগম, কবিতা বেগম, রিনা বেগম, হোসনেয়ারা জাহান, মালেকা বেগম, হেলেনা আক্তার, রুনা আক্তার, সালমা বেগম, বেগম লুৎফুন্নেসা, রিজিয়া বেগম, তাসলিমা বেগম, শারমিন বেগম, জামিলা পাঠান, হাসিনা বেগম, হোসনেয়ারা বেগম, জান্নাতুল বেগম, রহিমা খাতুন, পারুল বেগম, ফিরোজা বেগম ও রহিমা বেগম প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের নায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। সভায় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেত্রী ও নারী শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হারুনুর রশীদ খান বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সিরাত বা জীবনদর্শন কেবল ব্যক্তিগত ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শান্তি ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার শাশ্বত দলিল। আধুনিক বিশ্বে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মর্যাদা এবং নায্য পাওনা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাসুল (সা.)-এর বিদায় হজে ও জীবদ্দশায় প্রদত্ত নির্দেশনাগুলো আজও সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
বিশেষ অতিথি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, বর্তমান কর্পোরেট ও শিল্পযুগে নারী শ্রমিকরা প্রায়শই নানামুখী বৈষম্য, কম মজুরি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের অভাবের মুখোমুখি হচ্ছেন। মাতৃত্বকালীন ছুটি, কর্মস্থলে নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদার প্রশ্নে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো শ্রম আইন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করছে না। অথচ ইসলাম ধর্মে শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধের কড়া নির্দেশ রয়েছে। মহিলা শ্রমিকদের সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাসুল (সা.)-এর এই নীতিগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে দোররোশ শাহার লাকী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে নারী শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। তৈরি পোশাক শিল্প থেকে শুরু করে কৃষি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের প্রতিটি স্তরে নারীরা তাদের শ্রম দিয়ে জাতীয় অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ এখনো তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই শুধু আলোচনা সভা নয়, বরং বাস্তব ক্ষেত্রে শ্রমিকদের নায্য অধিকার আদায় করতে হলে ইসলামী শ্রম নীতিমালার কোনো বিকল্প নেই।



