সংসদে গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার বিল পাস

# মানবাধিকার বিল নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি এবং ওয়াকআউট #
# গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- ঃ পাস হওয়া ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’-এ গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় #
প্রবাহ রিপোর্ট ঃ বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের আপত্তি ও ওয়াকআউটের মধ্যেই মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার ও গুমকে দ-নীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা আইন জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ও সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল পাসের জন্য উত্থাপন করেন। গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- ঃ পাস হওয়া ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’-এ গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয়, এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। বিলে গুমের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদ-ের বিধান রাখা হয়েছে। তবে গুমের শিকার ব্যক্তি মারা গেলে অথবা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকলে অপরাধীর মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবন কারাদ- হতে পারে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আইনে নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে আদালতকে তল্লাশি পরোয়ানা জারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। দ-িত ব্যক্তির সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের কথা বলা হয়েছে, তা না হলে রাষ্ট্র ব্যয় বহন করবে। গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবার তার সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ পাবে। তদন্ত ও বিচার উভয়ই সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। তবে গুমের ঘটনা তদন্তে স্বাধীন কোনো তদন্ত সংস্থা গঠনের বিধান রাখা হয়নি, দায়িত্ব থাকছে পুলিশের হাতেই। নতুন কাঠামোতে মানবাধিকার কমিশন
‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে ২০০৯ সালের আইন বাতিল করে নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। কমিশনে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার থাকবেন। এর মধ্যে অন্তত একজন নারী এবং জাতীয় সংখ্যালঘু বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অন্তত একজন সদস্য রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিলে জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘ন্যাশনাল প্রিভেনটিভ মেকানিজম ইউনিট’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
অপরদিকে মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়ে আপত্তি, বিরোধীদলের ওয়াকআউট ঃ ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল-২০২৬’ পাসের প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানিয়ে জাতীয় সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। বিলটিকে ‘দুর্বল’ ও ‘দ্বৈত নীতির’ আখ্যা দিয়ে তারা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে চলা সংসদ অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে। অধিবেশনে বিলটি পাসের আগে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে এর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য আইনে বৈষম্যমূলক বিধান রাখা হয়েছে। বিলটির বিরোধিতা করে তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশনকে একটি ইউনিফর্ম অথরিটি (অভিন্ন কর্তৃত্ব) দেওয়া হয়নি। সাধারণ মানুষ মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে কমিশন সরাসরি তদন্ত করতে পারবে। কিন্তু কোনো বাহিনীর সদস্য জড়িত থাকলে আগে তাদের নোটিশ দিয়ে জবাব চাইতে হবে। প্রথমবার তারা জবাব না দিলে কী হবে, আইনে তার কোনো নির্দেশনা নেই। দ্বিতীয়বার জবাব না দিলে তবেই কমিশন তদন্ত করতে পারবে-এটা একটা বড় ফাঁক। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও এ দেশের নাগরিক। একই অপরাধে একজনের জন্য সরাসরি তদন্ত করা যাবে, আরেকজনের ক্ষেত্রে আটকে যাবে-এমন দ্বৈত প্রয়োগ হতে পারে না। আমরা আগেই বলেছিলাম, এই ল্যাপস হওয়া আইনগুলো আরও শক্তিশালী করে আনতে হবে। কিন্তু তা করা হয়নি। আমরা এই দুর্বল আইন পাসের অংশীদার হতে চাই না। এরপর বিলের আলোচনায় আর অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। বিরোধী দলের সদস্যরা যখন ওয়াকআউট করে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, আপনাকেও ওয়াকআউট করার জন্য ধন্যবাদ। এরপর স্পিকারের আহ্বানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল-২০২৬’ স্থায়ী কমিটির সুপারিশকৃত আকারে অবিলম্বে বিবেচনার জন্য সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন করেন।



