স্ত্রীকে গুলি করে সাজালেন ‘দুর্বৃত্তের হামলার’ গল্প : গ্রেপ্তার ৩

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ রাজধানীর দারুসসালামে মাদকসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে গুলি করার অভিযোগে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। ঘটনার পর ব্যবহৃত অস্ত্র লুকিয়ে রাখতে সহযোগিতা করার অভিযোগে তাদের ছেলে ও ছেলের এক বন্ধুকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন আহত নারীর স্বামী মো. আব্দুল মান্নান ওরফে আব্দুল হান্নান (৪৫), তার ছেলে মো. রাকিব (২৫) এবং রাকিবের বন্ধু মো. হাতিম মিয়া (২১)। র্যাব জানিয়েছে, মাদকাসক্ত অবস্থায় বাসায় ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন আব্দুল মান্নান। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তিনি স্ত্রীকে গুলি করেন। পরে ব্যবহৃত বিদেশি পিস্তলটি লুকিয়ে রাখার জন্য ছেলের কাছে দেন। রাকিব অস্ত্রটি তার বন্ধু হাতিমের কাছে রাখেন। পরে হাতিমের বাসার ওয়ারড্রব থেকে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৪-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় দারুসসালাম থানার মসজিদ গলি এলাকায় নিজ বাসায় জেসমিন আক্তার নামে এক গৃহবধূ গুলিবিদ্ধ হন। তাকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, ঘটনার ছায়া তদন্তে জানা যায়, জেসমিন আক্তারকে বাইরে থেকে কোনো দুর্বৃত্ত গুলি করেনি; বরং ঘরের ভেতরেই তার স্বামী তাকে গুলি করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৪-এর একটি দল রাত সাড়ে ৩টার দিকে দারুসসালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল মান্নানকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল মান্নান জানান, স্ত্রীকে গুলি করার পর ব্যবহৃত অস্ত্রটি অন্যত্র লুকিয়ে রাখার জন্য তিনি ছেলে রাকিবের কাছে দেন। পরে র্যাব-৪ ও দারুসসালাম থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর রাকিব জানান, অস্ত্রটি তিনি তার বন্ধু হাতিমের বাসায় লুকিয়ে রেখেছেন। পরে যৌথ অভিযানিক দল হাতিমের বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি কক্ষের ওয়ারড্রবের ড্রয়ার থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করে। র্যাবের দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটিই জেসমিন আক্তারকে গুলি করার ঘটনায় ব্যবহার করা হয়েছিল। লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার পর আব্দুল মান্নানের ছেলে রাকিব একটি গল্প সাজিয়েছিলেন যে, জানালা দিয়ে বাইরে থেকে দুর্বৃত্তরা গুলি করেছে। তবে তদন্তে ওই তথ্যের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। স্ত্রীকে গুলি করার কারণ সম্পর্কে র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, মূলত ঘটনাটি ঘরের ভেতরেই ঘটেছে এবং আব্দুল মান্নান ঘরের ভেতর থেকে তার স্ত্রীকে গুলি করেছেন। তিনি বেশির ভাগ সময় মাদকাসক্ত থাকতেন। ঘটনার রাতেও মাদকাসক্ত অবস্থায় বাসায় ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে মাদক গ্রহণ ও মাদকসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে স্ত্রীকে গুলি করেন। এতে জেসমিন আক্তারের ডান হাতের বাহুতে গুলি লাগে। আহত গৃহবধূ মাদকের সঙ্গে জড়িত কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে র্যাব জানতে পেরেছে, জেসমিন আক্তার মাদকের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি একজন ভালো নারী এবং স্বামীর মাদক ব্যবসা ও মাদকাসক্তির কারণে তাদের সংসারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। তিনি আরও বলেন, রাকিব মাদকাসক্ত-এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার পর অস্ত্রটি লুকিয়ে রাখতে সহযোগিতা করার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাবের দাবি, আব্দুল মান্নান ওই এলাকার একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী এবং অস্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় আগে থেকেই তিনটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও গুলি সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।



