সম্পাদকীয়

পোশাক খাতের কর্মীর জন্য পেনশন : সুষ্ঠু বাস্তবায়ন জরুরি

রপ্তানি আয়ে দেশের তৈরি পোশাক খাত শীর্ষে। অথচ এই খাতে কর্মরত শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশার অন্ত নেই। নিয়মিত বেতন পান না, রয়েছে চাকরির অনিশ্চয়তা। চাকরি চলে গেলে পড়তে হয় অথই সাগরে। এমন প্রেক্ষাপটে তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। দীর্ঘ মেয়াদে শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত শনিবার বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটরিয়ামে ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক আলোচনাসভা’ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা বলেন, তৈরি পোশাক খাতে পেনশন স্কিম বাস্তবায়নে বিজিএমইএ ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করবে। অনুষ্ঠানে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য শেখ কামরুল হাসান জানান, উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও বার্ধক্যে নাগরিকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকার সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করেছে। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকরা এই স্কিমে অংশ নিতে পারবেন এবং ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হলে নিয়মিত পেনশন সুবিধা পাবেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোশাক খাতের সব শ্রমিককে দ্রুত পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রথম দুই বছরের জন্য সরকারি প্রণোদনা এবং পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাব দেন। এদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ৫০ লাখ শ্রমিককে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং ধারাবাহিকভাবে তা পরিচালনা করা মোটেও সহজ কাজ নয়। বিশেষ করে অনেক নিম্ন আয়ের শ্রমিকের পক্ষে নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা দেওয়া কঠিন হতে পারে। খবরে বলা হয়েছে, সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রম আইন ২০২৬-এর সংশোধনী অনুযায়ী ১০০ জনের বেশি শ্রমিক কর্মরত এমন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের পেনশন স্কিমের আওতায় আনার বিধান রয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে উদ্যোগী হতে হবে। আমরা মনে করি, তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার উদ্যোগটি যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করা জরুরি। এ কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button