ভৈরব সেতু নির্মাণে নকশায় চার ধরণের পরিবর্তন নদীর মাঝে থাকবেনা কোনো পিলার

সৈয়দ জাহিদুজ্জামান দিঘলিয়া প্রতিনিধি ঃ খুলনার ভৈরব নদের ভৈরব সেতুর নির্মাণ কাজে আবার দীর্ঘসূত্রিতা। সেতু নির্মাণে নকশায় চার ধরণের পরিবর্তন এনে নতুন প্রস্তাবনা তৈরি করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নকশা পরিবর্তনকে সময়োপযোগী বলে দাবী করা হয়েছে। নতুন করে এ প্রস্তাবনা পাশ ও নতুন নকশা অনুযায়ী সেতুটি নির্মাণের কারণে ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কাজ সমাপ্তির জন্য সময় চাওয়া হয়েছে। আর এর জন্য সেতুটি নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত ১৫০ কোটি টাকা সম্ভব্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। যা ডিপিপি’র মোট ব্যয়ের ৭ শতাংশ বলে জানা গেছে। এদিকে ভৈরব নদের ওপর নির্মাণাধীন ভৈরব সেতু প্রকল্পের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী গত ৫ বছরে কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ এবং বর্তমানে সেতুটির নির্মাণ কাজ প্রায় স্থবির হয়ে রয়েছে। মুলতঃ এ সেতুটি নির্মাণের শুরুতে ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা ও বার বার সেতুর ডিজাইন পরিবর্তন এবং সেতু বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এই ধীর গতি বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।
বর্তমানে নতুন ডিজাইনে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে সেতুর কাজ শুরু হবে। পুরাতন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের কাজে ধীর গতি বার বার চিঠি দেওয়ার পরও কাজ শুরু না করায় ঠিকাদারের সাথে চুক্তি বাতিলের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ পাঠিয়েছে সেতু বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ। অনুমোদন মিললে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে এমনটাই জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত ৫ বছরে সেতুর দৃশ্যমান কাজের অগ্রগতি হয়েছে প্রকল্পের মোট ২৮ টি পিলারের মধ্যে ১৭টি পিলার। নির্মাণাধীন ভৈরব সেতুর নকশায় চারটি বড় পরিবর্তন এনে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে জমা করা হয়েছে এমনটায় জানিয়েছেন সেতুর বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ। নদীর নাব্য ও স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রাখতে এবং বিআইডব্লিউটিএ (ইওডঞঅ)-এর আপত্তির কারণে সেতুর নকশায় বড় ধরণের ৪টি পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নকশা অনুযায়ী নদীর মধ্যে কোনো পিলার থাকবেনা এবং কংক্রিটের পরিবর্তে এটি স্টিল স্ট্রাকচার স্প্যানে তৈরি করা হবে। শহরাংশে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। নতুন নকশা অনুযায়ী খুলনা শহরের রেলিগেট স্টাফ কোয়ার্টার প্রান্তে সেতুর প্রবেশদ্বারে ১৫ মিটার উঁচুতে একটি ৫০ মিটার ইন্টারসেকশন বা ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে।
নতুন করে নকশা পরিবর্তন করার কারণে ব্যয় ও সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। নকশা পরিবর্তন এবং নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়ার কারণে ৬১৭ কোটি টাকার এ প্রকল্পটির মেয়াদ নতুন করে আরও ৩ বছর বাড়ানোর জন্য একনেকে সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। খুলনা শহরের সাথে দিঘলিয়া উপজেলা ও নড়াইল জেলাকে সরাসরি যুক্ত করার এই স্বপ্নের প্রকল্পটি ঝুলে আছে যা বাস্তবায়ন হলে খুলনা শহরসহ এ এলাকার মানুষের রাজধানী শহরে যাতায়াতের পথকে সহজ ও সময় বাঁচাতে সাহায্য করবে। আর এ প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা টালবাহনা স্থানীয় জনগণের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করছে।



