‘মিস্টার বাদল’-এর জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুরস্কৃত নির্মাতা

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ একটি গল্পকে শুধু বলা নয়, সেটিকে নিজের নির্মাণ ভাষায় দর্শকের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা আশরাফুজ্জামান। তাঁর চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত ‘মিস্টার বাদল’। এটি জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে। সুইডেনের সিটি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল স্টকহোম ২০২৬-এ ‘বেস্ট ডিরেক্টর’ বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন আশরাফুজ্জামান। একই সঙ্গে কানাডার ১১তম কানাডা ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-এ অফিসিয়াল সিলেকশন পেয়েছে চলচ্চিত্রটি। ‘মিস্টার বাদল’-এর অন্যতম শক্তিশালী দিক এর চিত্রনাট্য। গল্পটি সরল পথে এগিয়ে না গিয়ে বিভিন্ন সময়, সম্পর্ক ও আবেগের স্তর অতিক্রম করে সামনে এগিয়েছে। কমেডি, প্রেম, স্মৃতি, বিচ্ছেদ এবং নস্টালজিয়াকে একসঙ্গে ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন আশরাফুজ্জামান। গল্পের একাধিক ক্লাইম্যাক্স এবং চরিত্রের পরিবর্তন দর্শককে কাহিনির পরবর্তী মোড় সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলে। চিত্রনাট্যের পাশাপাশি চলচ্চিত্রটির নির্মাণশৈলীতেও আশরাফুজ্জামানের নিজস্বতার ছাপ রয়েছে। দৃশ্যের আবহ, চরিত্রের মানসিক পরিবর্তন এবং গল্পের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে ক্যামেরা, সম্পাদনা, আলো ও রঙের ব্যবহারের মাধ্যমে আলাদা মাত্রা দেওয়ার চেষ্টা দেখা যায়। বিশেষ করে গল্পের আবেগের সঙ্গে ভিজ্যুয়াল ভাষাকে মিলিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নির্মাণে গুরুত্ব পেয়েছে। ‘মিস্টার বাদল’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে জিয়াউল হক পলাশের অভিনয় চলচ্চিত্রটির অন্যতম আকর্ষণ। ‘বাদল’ চরিত্রটি একমাত্রিক নয়- কখনো হাস্যরসাত্মক, কখনো আবেগপ্রবণ, আবার কখনো সম্পর্ক ও জীবনের জটিলতায় আটকে পড়া একজন মানুষ হিসেবে তাকে দেখা যায়। পলাশ চরিত্রটির এই পরিবর্তনগুলো স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। বিশেষ করে কমেডি ও আবেগঘন দৃশ্যের মধ্যে তার অভিনয়ের ভারসাম্য দর্শকের নজর কেড়েছে। অন্যদিকে পারসা ইভানার ‘রিতা’ চরিত্রের উপস্থিতি গল্পে নতুন গতি তৈরি করেছে। এতে আরও অভিনয় করেছ সৈয়দ জামান শাওন, নিকিতা সাহা, আবু হেনা রনি, খায়রুল আলম টিপুসহ অনেকে।



