খুলনায় ডাবের দাম আকাশচুম্বী : দিশেহারা রোগীর পরিবার

# বিভাগে ডেঙ্গু মহামারী পর্যায়ে যাওয়ায় পোয়াবারো ডাব ব্যবসায়ীদের #
শাহরিয়ার রাব্বী ঃ খুলনায় বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। ডেঙ্গু আক্রান্তদের শরীরে পানিশূন্যতা দূর করতে চিকিৎসকরা বেশি বেশি তরল খাবার দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু এই সুযোগে বাজারে ডাবের দাম আকাশচুম্বী করে তুলেছেন বিক্রেতারা, যা রোগীর পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বর্তমানে খুলনার হাসপাতাল এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ছোট ডাব ১২০ টাকা, মাঝারি সাইজের ডাব ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বড় ডাব ২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে ডেঙ্গুর চিকিৎসার খরচের পাশাপাশি এই ডাবের চড়া দাম মেটাতে গিয়ে রোগীর স্বজনরা চরম সংকটে পড়েছেন। বিক্রেতারা ডাবের দাম বেশি নিচ্ছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। কিছুদিন আগেও একটি ডাব ৭০-৯০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন নেওয়া হচ্ছে ১২০-২০০ টাকা। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মৌসুমি ফলের চেয়েও বর্তমানে ডাবের চাহিদা বেড়েছে। নগরবাসীর এ চাহিদা মেটাতে ফুটপাতে ভ্যানে ভ্যানে বিক্রি হচ্ছে ডাব। সবখানেই ক্রেতার ভিড় রয়েছে। ক্রেতা টুম্পা জামান বলেন, ‘আমার বড় বোনের ডেঙ্গু পজেটিভ, দিন দিন প্লাটিলেট নিচে নামছে।
অপর একজন রোগীর স্বজন সজিব টেলিকম এর স্বত্তাধিকারী সজিবের অভিযোগ, ডেঙ্গুর কারণে ডাবের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে বেশির ভাগ ডাব অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ব্যবসায়ীরা অপরিপক্ক ডাব গাছ থেকে পেড়ে বাজারে চড়া দামে বিক্রি করছেন।
ডাক্তার বলেছেন তরল জাতীয় খাবারের পাশাপাশি প্রচুর ডাবের পানি খাওয়াতে। এর জন্য একটা ডাব কিনতে আইছি। কিন্তু এবার ডাবের দামটা অনেক। প্রতিদিন ডাব খাওয়ানো আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।’ খুলনা জেলা ও বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইতোমধ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশন, সরকার ও বিরোধী দলীয় নেতা কর্মীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণ হু হু করে বাড়ছে এবং হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ভর্তির সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি, যেখানে শয্যা সংকটের কারণে চিকিৎসকদেরও সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে একই অবস্থা। সাধারণ মানুষের অসচেতনতা ও জমে থাকা পানির কারণে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যা খুলনার সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর এক বিশাল চাপ তৈরি করেছে। এমতাবস্থায় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ন্যায় ডাবের দাম নির্ধারন করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।



