খুলনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘আরমান বাহিনীর’ প্রধান শুটার আরমান গ্রেফতার, ৩টি অস্ত্র-গুলি উদ্ধার

দৌলতপুরে মসজিদে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনার স্বীকারোক্তি
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক সৃষ্টি করা শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান আরমান হোসেন দীপু ওরফে শুটার আরমান ওরফে আরমিনকে (৩৫) অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। সোমবার র্যাব-৬ খুলনার সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২টি শটগান এবং ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আরমান হোসেন দীপু ওরফে শুটার আরমান নগরীর দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকার মোঃ আসাদুজ্জামান ওরফে মিন্টুর ছেলে। তার বিরুদ্ধে ছয়টি হত্যাসহ মসজিদের মধ্যে গুলি চালিয়ে দুজনকে হত্যা প্রচেষ্টার মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব- ৬ এর উপ-অধিনায়ক মো. নাজমুল ইসলাম জানান, নগরীর দৌলতপুরের বিদ্যুৎ অফিসের মসজিদে গুলি ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আরমান জানায়, গত ১৭ জুন দৌলতপুরে মসজিদে প্রবেশ করে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল। এছাড়া দৌলতপুর ও আড়ংঘাটা এলাকায় ৮-১০ জনের এক সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে সে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, অস্ত্র প্রদর্শন ও হুমকি প্রদান করে আসছিল। সে সৌদি ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন বিদেশি নম্বর থেকে ব্যবসায়ীদের হোয়াটসঅ্যাপে কল করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দিলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা প্রাণনাশের হুমকি দিত।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, আরমান এর আগে খুলনার অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী হুমায়ুন কবির ওরফে হুমা গ্রুপের সদস্য ছিল। পরবর্তীতে বেরিয়ে আসে নিজেই আরমান বাহিনী নামে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ গঠন করে। তার গ্রুপে ৮-১০ জন সদস্য রয়েছে। যাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরমানের পূর্ব অপরাধ রেকর্ড পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- মামুন মোল্লা, মারজান মুন্না, কালা রানা, ঘাউড়া রাজিব, যুবদল নেতা রাশু, মনিরুল ইসলাম রনি হত্যা এবং দৌলতপুর মসজিদে দুই মুসল্লিকে হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে। আরমান বাহিনীর অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।



