খুলনার ভৈরব নদে সক্রিয় জ্বালানি তেল চোর সিন্ডিকেট নিরব প্রশাসন প্রতি রাতেই জাহাজ থেকে তেল চুরি হচ্ছে মাঝিরা তেল নামায় নৌকায়

দিঘলিয়া প্রতিনিধি ঃ খুলনা নগরীর খালিশপুর দৌলতপুর ও দিঘলিয়া উপজেলার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত ভৈরব নদ বর্গমানে জ্বালানি তেল চোর সিন্ডিকেটের দখলে। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই ভৈরব নদের মাঝে শুরু হয় জ্বালানি তেল চুরির বাজার। মেসার্স পদ্মা, মেসার্স মেঘনা ও মেসার্স যমুনা ডিপোতে জ্বালানি তেল খালাসের অপেক্ষায় থাকা নোঙ্গর করা জাহাজগুলোর দিকে ধেয়ে আসে মাঝি রূপী জ্বালানি তেল চোর কারবারিরা।
চট্টগ্রাম থেকে জ্বালানি তেল ভর্তি করে এ সকল ডিপোতে আসা এ সকল ট্যাংকার থেকে প্রিনিয়ত চুরি হচ্ছে হাজার হাজার লিটার ফার্নেস ওয়েল, পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন ও কেরসিন। বিশেষ কৌশলে নির্মাণ করা এ সকল ট্রলারে নামানো হয় হোস পাইপের সাহায্যে। সেখান থেকে তেল ভর্তি করা হয় নানা পরিমাপের ক্যানে। এ সকল ক্যান ভর্তি করে তেল ভ্যান যোগে পাঠানো হয় কালোবাজারে। আর এই তেল চুরির সাথে জড়িত ডিপোর কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, জাহাজের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। প্রতিমাসে কেনাবেচা হয় কোটি টাকার চোরাই তেল। গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাদের তেল চুরি। আর সকাল হতে না হতেই ভ্যান যোগে তেল পাঠানো হয় গন্তব্যে। চট্রগ্রাম থেকে খুলনার তিনটি তেল ডিপো মেসার্স পদ্মা, মেসার্স মেঘনা ও মেসার্স যমুনা কোম্পানীর ঘাটে ভৈরব নদীতে নোঙর করার পরপরই তেল খালাস হওয়ার আগ পর্যন্ত যে কয়দিন জাহাজগুলো নদীতে অপেক্ষমাণ থাকে, প্রতিরাতেই এসব জাহাজ থেকে তেল চুরি হয় বলে সূত্র জানায়। নিদিষ্ট হারে মাসোহারা পাওয়ায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা অজ্ঞাত কারণে নীরব। নিজ উদ্যোগে কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে এ সকল অবৈধ চোরাকারবারির সাথে জড়িত মহল হুংকার দিয়ে বলেছে আমরা মাসোহারা দিই। লেখালেখি যত পারে করুক। আমাদের তাতে কিছু যায় আসেনা। জানা গেছে,মহানগরীর খালিশপুরের ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত মেসার্স পদ্মা,মেসার্স মেঘনা,ও মেসার্স যমুনা নামে তিনটি তেল কোম্পানির ডিপো। বিদেশ থেকে আমদানি করা পরিশোধিত এবং অপরিশোধিত তেল চট্রগ্রাম বন্দর থেকে খুলনায় ট্যাংকার যোগে বিতরণ কোম্পানির ডিপোর জন্য পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন,কেরোসিন,ফার্নেস অয়েলসহ সবধরনের জ্বালানী তেল সরবরাহ করে থাকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করর্পোরেশন। চট্রগ্রাম থেকে যে পরিমাণ তেল জাহাজে ভরা হয়, একই পরিমাণ তেল গন্তব্য ডিপোতে আনলোড করতে হয় জাহাজগুলোকে। প্রতিমাসে গড়ে তিনটি তেল কোম্পানীর ডিপোতে কোটি কোটি টাকা কেনা- বেচা হয় । চট্রগ্রাম থেকে তেলবাহী ট্যাংকারগুলো জ্বালানি তেল লোড নিয়ে খালিশপুরের ভৈরব নদ সংলগ্ন তিনটি তেল ডিপো মেসার্স পদ্মা,মেসার্স মেঘনা ও মেসার্স যমুনা কোম্পানীতে আনলোড করার আগ মুহূর্তে ভৈরব নদের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে নোঙর করার পরপরই তেল চোরাকারবারীরা তৎপর হয়ে ওঠে । ইতোপৃর্বে রাতের আধাঁরে হোস পাইপ দিয়ে নৌকার খোলে করে এবং ড্রামে ভরে ডিজেল,ফানিস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিন তেল পাচার করলেও বর্তমানে কৌশল পরির্বতন করেছে। জাহাজে কর্মরত নাবিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ‘জরুরি মালামাল পৌঁছে দেওয়ার’ অজুহাতে মাঝিরা নৌকায় করে তেল সংগ্রহ করেন। জাহাজ কর্মকর্তা যোগসাজশে প্রকাশ্য দিবালোকেও জাহাজ থেকে প্লাস্টিকের ক্যানে করে নৌকার মাধ্যমে এ চোরাই তেল কেনা-বেচা হয়। খালিশপুর তিনটি ডিপো পদ্মা,মেঘনা,যমুনা কোম্পানীর সামনে সড়কের দুই পাশে চোরাকারবারি চক্রগুলোর অনেকগুলো অবৈধ দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকান মালিকরা মূল তেল চোর সিন্ডিকেটের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে তেল চুরি কারবার পরিচালনা করে বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। এ চোরাই তেল পৌঁছে যায় পাইকারি ও খুচরা গ্রাহকদের কাছে। ছোট দোকান, অয়েল ফিলিং স্টেশন, গাড়ির গ্যারেজ, বড় শিল্পকারখানায় সব জায়গাতেই যায় ।এ চোরাই তেলের বড় অংশটি কতিপয় ডিলারদের কাছে বিক্রয় করা হয়। এছাড়াও খালিশপুর, দৌলতপুর, দিঘলিয়ার থানার বেশ কয়েকটি জ্বালানী তেলের দোকানে প্রতিনিয়ত চোরাই তেল বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে । দিঘলিয়া ও খালিশপুরের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ এবং জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে এ চোরাই তেলের বাজার চলে । আর প্রভাবশালী ও রাজনীতিবিদ এবং জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে চোরাই তেলের টাকা ভাগ বাটোয়ারা হওয়ার কারণে চোরাই তেল কারবার বন্ধ হচ্ছে না। এ চোরাই তেলের লাভ পায় সবাই। শুধু লোকসান গুনে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। খালিশপুরের জনৈক তেল কোম্পানীর কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখানকার তিনটি তেল কোম্পানী যে পরিমান তেল চুরি হয় তা রোধ করা গেলে প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে । খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মীর আতাহার আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার নলেজে নেই। ঘটনা সত্য হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিব। কেএমপি নৌথানা অফিসার ইনচার্জ বাবুল আক্তার এ প্রতিবেদককে বলেন, জ্বালানি তেলের সংকট মুহূর্তে সেনাবাহিনীর অবস্থান ছিল। জ্বালানি তেলের সকল প্রকার কালোবাজারি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। নৌ পথে ট্যাংকার থেকে অবৈধভাবে তেল পাচার হয় আগে এমন অভিযোগ শুনতাম। আমাদের থেকে দূরত্ব অনেক বেশি। আমরা নদী পথে যানবাহন নিয়ে যাওয়ার আগেই তারা সরে যায়। আমি জানি এখন আর তেল চুরি হচ্ছে না। কেউ অভিযোগও দেয়না। বিষয়টা অবগত হলাম। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ এ প্রতিবেদককে জানান, বিষয়টা তদন্ত করে দেখা হবে। দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ হাও সানওয়ার হুসাইন এ প্রতিবেদককে জানান, এ বিষয়গুলো আমার জানা নেই। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিব।



