দুই হাতে অস্ত্র নিয়ে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে গুলি : গ্রেপ্তার ৪

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ দুই হাতে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ী আসলাম খানকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র বহনে দুই নারীকে ব্যবহার করা হয়। রাজধানীর কদমতলীতে আলোচিত এ হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে দুটি অস্ত্র, নয় রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. মঞ্জুজুরুল ইসলাম (৪৪), ইকবাল কালু (৩২), আকলিমা আক্তার রুনিয়া (৩০) ও সোনিয়া ইয়াসমিন (৪৩)। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী। তিনি জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৮টার দিকে কদমতলী থানার জিয়া সরণির মেসার্স লাকি ক্রোকারিজে ঢুকে দোকানের মালিক মোহাম্মদ আসলাম খানকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। হামলার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা যায়। গুলিতে আসলাম খানের মুখের ডান পাশ ও বাম হাতের কনুইতে আঘাত লাগে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে মঞ্জুজুরুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি রিভলভার, নয় রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করে পুলিশ। মঞ্জুজুরুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতেই কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইকবাল কালুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকলিমা আক্তার রুনিয়া ও সোনিয়া ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে হামলার সময় ঘটনাস্থলে মোট ছয়জনের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার সোনিয়া ইয়াসমিন ও আকলিমা আক্তার রুনিয়া অস্ত্রের ‘ক্যারিয়ার’ হিসেবে কাজ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, ভ্যানিটি ব্যাগে করে অস্ত্র ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন। হামলার আগে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তারা বৈঠকও করেন। উত্তরখান থেকে অস্ত্র নিয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সবাই একত্রিত হওয়ার পর পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে যায় চক্রটি। তদন্তে হামলার পেছনে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিও উঠে এসেছে বলে জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা। ডিসি মল্লিক জানান, ভুক্তভোগী আসলাম খান ও তার সহযোগীদের কেনা একটি জমি দীর্ঘদিন ধরে জলিল ম-লের দখলে ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা চলার পর আদালতের রায় পান আসলাম খান। পরে গত ১৭ আগস্ট ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জলিল ম-লকে উচ্ছেদ করে আসলাম খানকে ওই জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। জমির দখল হারানোর ক্ষোভ থেকেই আসলাম খানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে হামলা চালিয়েছে। ডিসি বলেন, ঘটনাটি শুধু ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে ঘটানো হয়নি। প্রাথমিক তদন্তে আসলাম খানকে হত্যার উদ্দেশ্যেই খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর তথ্য পাওয়া গেছে। হামলার সময় আসলাম খানও প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় কদমতলী থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও দুজন এবং জমি-সংক্রান্ত বিরোধের মূল ব্যক্তি জলিল ম-লকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো কোথা থেকে এসেছে, কার মাধ্যমে হামলাকারীদের কাছে পৌঁছেছে এবং এই হত্যাচেষ্টার নেপথ্যে আরও কারা রয়েছে, তদন্ত করে সেসব তথ্য বের করা হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।



