স্থানীয় সংবাদ

ফুলতলার এসিল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ার আতিকের ঘুষ বাণিজ্যের কলরেকর্ড ফাঁস

ইশারায় ঘুষের অংক বুঝিয়ে দেন সেবা গ্রহীতাদের
লিখিত অভিযোগ বিভাগীয় কমিশনারের কাছে

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার ফুলতলা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান। মুখে নয়, ইশারায় বুঝিয়ে দেন ঘুষের অংক। কারণ তৎকালীন রূপসা উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুষ কেলেংকারীর অডিও রেকর্ড ফাঁস এবং বিভিন্ন পত্র প্রত্রিকায় তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হওয়াতে খুবই সতর্কভাবে ঘুষের লেনদেন করেন ফুলতলায় বদলি হয়ে আসেন। ইশারা-ইঙ্গিত এবং খাতায় লিখে বুঝিয়ে দেন টাকার অংকের পরিমান। বড়জোড় বদলি। এর বাইরে তাঁর কিছুই হবে না বলে জানান ভুক্তভোগীদের।
তবে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। ঠিকই ধরা খেলেন এই সার্ভেয়ার। অর্পিত তালিকা থেকে অবমুক্তির প্রতিবেদনের জন্য ফুলতলার উত্তর ডিহির ইদ্রিস ফারাজীর নিকট ৬৭ শতক জমির অবমুক্তির প্রতিবেদন রিপোর্ট দাখিলের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। আর এই দাবির অডিও রেকর্ড করেন ওই ইদ্রিস ফারাজীর ভাগ্নে। বিষয়টি এখন গড়িয়েছে খুলনার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়।
ইদ্রিস ফারাজী গত ৯ সেপ্টেম্বর খুলনা জেলা প্রশাসক, খুলনার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সহ ভূমি মন্ত্রীর নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে চলতি বছরের মার্চ মাসে অর্পিত তালিকা হতে অবমুক্ত কেস নং-৭৩/২০২৫-২৬ এর সরেজমিন তদন্ত, স্কেচম্যাপ ও মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা ভূমি অফিসকে। আর এই বিষয়টি নিয়ে ফুলতলার এসিল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান প্রতিবেদন রিপোর্টটি দ্রুত প্রদান করার জন্য ইদ্রিস ফারাজী নামের এক ব্যক্তির নিকট ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। কাজটি শুরু করার জন্য অগ্রিম ১৪ হাজার ৫শ টাকা আতিক গ্রহণ করেন বলে ভুক্তভোগী জানান। ইদ্রিস ফারাজীর ভাগ্নের সাথে আতিকের ঘুষের টাকা চাওয়ার একটি কল রেকর্ড ফাঁস হয়ে যায়।
অন্যদিকে দীর্ঘ ৫ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও কোন প্রতিবেদন রিপোর্ট আতিক প্রদান করেনি। সব কিছু মিলে ভুক্তভোগী ইদ্রিস ফারাজী নিরুপায় হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে। আতিকের বিরুদ্ধে শুধু ইদ্রিস ফারাজী নয়। অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে ফুলতলার মানুষের। বারবার ঘুষ কেলেংকারীর সাথে জড়িত থাকার পরেও কোন বিভাগীয় শাস্তির সম্মূখীন না হওয়াতে আতিক বীরদর্পে ফুলতলা এসিল্যান্ড অফিসে ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে আসছে।
ভুক্তভোগী ইদ্রিস ফারাজী বলেন, আমি নিরুপায় হয়ে আতিককে টাকা দিয়েছি। অথচ দিন দিন তার টাকার অংকের পরিমান বাড়তে থাকে। ফলে আমি আর মুখ বুঝে অপরাধ সহ্য না করে উপরে দরখস্ত দিয়েছি।
সার্ভেয়ার আতিককে ঘুষ লেনদেনের বিষয় মুঠোফোন জানতে চাইলে তিনি বলেন, যা বলার অফিসে এসে বলেন। এতটুকু বলেই ফোন কেটে দেন।
খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ (যুগ্মসচিব) বলেন, অভিযোগের কপিটি এখনও আমি হাতে পাইনি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button