মহানগরীর সড়কসমূহে বিভিন্ন ম্যানহোল ও পাইপলাইনসমূহ পর্যবেক্ষণ করলেন কেসিসি প্রশাসক ও খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যানের

# নগরীতে ১৮ হাজার ম্যানহোলে মশার লার্ভা ও উড়ন্ত মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা মহানগরীর সড়কসমূহে ওয়াসা কর্তৃক নির্মিত ম্যানহোল ও পাইপলাইনে এডিস মশার বংশ বিস্তারের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান উভয় সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে বুধবার সকালে বিভিন্ন ম্যানহোল ও পাইপলাইনসমূহ পর্যবেক্ষণ করেন। উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ওয়াসা কর্তৃক নির্মিত ম্যানহোল ও পাইপলাইনে এডিস মশার বংশ বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ উত্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া গত ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার কেসিসি’র ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানেও উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীগণ ম্যানহোলে এডিস মশার বংশ বিস্তারের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরার প্রেক্ষিতে উভয় সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাগণ ম্যানহোলগুলি পর্যবেক্ষণে বের হন। পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে প্রশাসক বলেন, দেশে যে কয়টি শহরে ডেঙ্গু জ¦রের ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে তার মধ্যে খুলনাও রয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনার আলোকে নগরীতে ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে গত মে মাস থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে। কিন্তু পুরোপুরি সফল হতে না পারলেও নিরবিচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালনে কোন ঘাটতি ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক আরো বলেন, ডেঙ্গু জ¦রের সংক্রমণ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী একটি সভা আহবান করেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশনসহ ৫টি সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসককে সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। সভায় কেসিসি’র বিগত তিন মাসের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়েছে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেশকিছু নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি আগামী বারো সেপ্টেম্বর তিনি দেশব্যাপী একযোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নগর ভবনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, আনসার, স্কাউটসহ সকল সরকারি বিভাগের সমন্বয়ে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা আহবান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনের পর ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে সমন্বিতভাবে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করা হবে বলে প্রশাসক উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে কেসিসি গত মে মাসের শুরু থেকে সর্বশক্তি নিয়োজিত করে কাজ করছে। মশার লার্ভা ও উড়ন্ত মশা নিধনে নগরজুড়ে ঔষধ স্প্রে করার পাশাপাশি ঝোপঝাড় ও কচুরীপানা অপসারণ, ড্রেনের পেড়িমাটি উত্তোলন, জলাবদ্ধ পানি অপসারণসহ জনগণকে সচেতন করার জন্য লিফলেট বিতরণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার প্রচারণার ব্যবস্থা করা হয়। সর্বশেষ বিদ্যমান জনবলের পাশাপাশি শুধুমাত্র ঔষধ প্রে করার কাজে প্রতি ওয়ার্ডে অতিরিক্ত পাঁচজন করে লোক নিযুক্ত করা হয়েছে। সন্দেহ দূর করতে আজ থেকে নগরীতে বিদ্যমান ১৮ হাজার ম্যানহোলে মশার লার্ভা ও উড়ন্ত মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রশাসক বাড়ির আঙ্গিনা ও প্রতিষ্ঠানসমূহের সীমানার মধ্যে নিজ উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন রাখতে সকলের প্রতি আহবান জানান এবং এ কাজে সিটি কর্পোরেশন পাশে থাকবে বলে উল্লেখ করেন। কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো: আনিসুর রহমান, খুলনা ওয়াসা’র উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আরিফুল হক জুয়েল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খান সেলিম আহমদ সহ উভয় সংস্থার কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যম কর্মীগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।



