জাতীয় সংবাদ

হজযাত্রী প্রেরণে কোটা পূরণ করতে পারছে না বাংলাদেশ

হজযাত্রী প্রেরণে বিশ্বে ৪র্থ অবস্থান
সরকারি ব্যবস্থাপনায় হার ৬%
বেসরকারি গমনকারী যাত্রীর ৯৪%
সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ

এমএন জানান : সৌদিতে হজযাত্রী প্রেরণে নির্ধারিত কোটা পূরণ করতে পারছে না বাংলাদেশ। গেল বছরও প্রায় অর্ধ লাখ হজযাত্রী কম প্রেরণ করা হয়েছে। এ অবস্থায় নির্ধারিত কোটা কমে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ফলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী বাংলাদেশের হজযাত্রী কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। তবে, বিশ্বে সর্বোচ্চ হজযাত্রী প্রেরণকারী দেশগুলোর তালিকায় ৪র্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে এ চিত্র উঠে এসেছে।
সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ৫টি হজযাত্রী প্রেরণকারী দেশ ও তাদের কোটা হলো- ইন্দোনেশিয়ায় ২ লাখ ২১ হাজার, পাকিস্তান ১ লাখ ৮০ হাজার, ভারত ১ লাখ ৭৫ হাজার, বাংলাদেশ ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ এবং নাইজেরিয়া ৯৫ হাজার জন।
এই সূত্র জানান, বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮জন হলেও ২০২৬ সালের হজে বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট ৭৮হাজার ৩৯০ জন হজ পালন করেন। যেখানে ৪৮ হাজার ৮০৮জন যাত্রী কম ছিল।
অপরদিকে, সরকারি বনাম বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রতিবেশী ও অন্যান্য মুসলিম দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের প্রবণতা অত্যন্ত নি¤œমুখী।
সংগৃহীত উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি মাধ্যমে গমনকারী ছিলেন ৪ হাজার ৪৬৪ জন। যা মোট যাত্রীর মাত্র ৬%। এর বিপরীতে বেসরকারি মাধ্যমে গমনকারী ছিলেন ৭৩ হাজার ৯২৬ জন। যা মোট যাত্রীর ৯৪%।
অন্যান্য দেশের সরকারি হজ ব্যবস্থাপনার হারের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ইন্দোনেশিয়ায় ৯৫% হজযাত্রী সরকারি ব্যবস্থাপনায় গমন করেন। এছাড়া পাকিস্তানে ৭০% এবং ভারতে ৬০% হজযাত্রী সরকারি মাধ্যমে হজ সম্পাদন করেন। সেই তুলনায় বাংলাদেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গমনের হার সর্বনি¤œ (মাত্র ৬%)।
সৌদি সরকার ও হজযাত্রী প্রেরণকারী দেশের যৌথ ব্যবস্থাপনায় হজ পরিচালিত হলেও দেশে সরকারি হজ ব্যবস্থাপনার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি ও নিবন্ধন বাড়ানোর জন্য আরো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
সরকারি মাধ্যমে হজ পালনে নানা সুবিধা, বেসরকারিতে ঝুঁকি :
এদিকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেছেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত। এছাড়াও রয়েছেন নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা। পক্ষান্তরে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রতারণাসহ রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি। এরপরও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ্জ পালন নিয়ে বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। এসব ভ্রান্ত ধারণা দূর করে সরকারি মাধ্যমে হজযাত্রী নিবন্ধনের হার বাড়াতে এবং কোটার অন্তত ২৫ শতাংশ নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে খুলনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহযোগিতায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ কর্মশালার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি। এতে মূল আলোচক ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোঃ কামরুল হাসান। বিশেষ আলোচক ছিলেন খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম। আলোচনা করেন খুলনার জেলা প্রশাসক মিজ্ হুরে জান্নাত। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন খুলনার পরিচালক মোহাম্মদ মহীউদ্দীন মজুমদার।
কর্মশালায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুবিধা তুলে ধরে বলা হয়- সরকারি মাধ্যমে হজ পালন পুরোপুরি নিরাপদ এবং ঝুঁকিমুক্ত, প্রতি ৪৪ জন হজযাত্রীর জন্য একজন করে আরবি জ্ঞানসম্পন্ন, দক্ষ ও অভিজ্ঞ হজ গাইডের ব্যবস্থা থাকে, হজ প্যাকেজে যেসব সেবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তার শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হয়, হজ প্যাকেজের অব্যবহৃত অর্থ এবং যেকোনো রিফান্ডের টাকা সরাসরি হজযাত্রীর নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়া হয়, হজ প্যাকেজ-১ এর হজযাত্রীদের জন্য জামারার কাছাকাছি তাঁবুতে (তাঁবু জোন-২) থাকার ব্যবস্থা করা হয়।
তবে সরকারি হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে, যা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে— সরকারি মাধ্যমে হজ শুধু সরকারি চাকরিজীবী বা সরকারি লোকজনের জন্য প্রযোজ্য, থাকার বাড়ি অনেক দূরে হয়, নিজ ব্যবস্থাপনায় খাবার গ্রহণ করতে হয়, হাজীদের দেখাশোনার জন্য কোনো গাইড থাকে না- ইত্যাদি। যেগুলো সঠিক নয়।
কর্মশালায় আরো জানানো হয়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের হার বাড়াতে বেশ কিছু জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- মোট হজ কোটার অন্তত ২৫% হজযাত্রী যেন সরকারি মাধ্যমে নিবন্ধন করেন, তা নিশ্চিত করা, জেলা ও উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভায় “সরকারি মাধ্যমে হজ” বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও উপপরিচালকরা সমন্বয় সভায় উপস্থিত থেকে সরকারি মাধ্যমে হজযাত্রী বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং হালনাগাদ তথ্য প্রদান করবেন। এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মূল্যায়নে নিয়মিত পর্যালোচনা সভা আয়োজন করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কর্মশালায় আরো জানানো হয়, বিশ্বে সর্বোচ্চ হজযাত্রী প্রেরণকারী দেশগুলোর তালিকায় ৪র্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী বাংলাদেশের হজযাত্রী কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান ও উপস্থাপনা সূত্রে এ চিত্র উঠে এসেছে।
বলা হয়, হজ ২০২৬-এর বাস্তবায়ন চিত্র ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের অন্যতম বিধান পবিত্র হজ পালন একটি দ্বি-রাষ্ট্রীয় সংবেদনশীল কার্যক্রম। বাংলাদেশ অংশে এ ব্যবস্থাপনা পরিচালন করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২০২৬ সালের হজে বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট ৭৮ হাজার ৩৯০ জন হজ পালন করেন। তবে নির্ধারিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
সৌদি সরকার ও হজযাত্রী প্রেরণকারী দেশের যৌথ ব্যবস্থাপনায় হজ পরিচালিত হলেও দেশে সরকারি হজ ব্যবস্থাপনার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি ও নিবন্ধন বাড়ানোর জন্য আরো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button