সংখ্যাগরিষ্ঠতার দম্ভে সংসদে কুরআন ও সুন্নাহবিরোধী আইন পাস করে সরকার চরম দুঃসাহস দেখিয়েছে-অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এমপি

# জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চল বৈঠক #
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাহী সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার দম্ভে সংসদে কুরআন ও সুন্নাহবিরোধী আইন পাস করে সরকার চরম দুঃসাহস দেখিয়েছে। কুরআনের বিধানের বিরুদ্ধে হাত দেওয়ার পরিণতি শুভ হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। তিনি বলেন, হেবা ও ওসিয়তসংক্রান্ত বিধান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত। এসব বিধানে পরিবর্তন এনে সরকারের মন্ত্রীরা কোটি কোটি মুসলমানের ঈমানি অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অধিকার, গণভোট, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও সার সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে আন্দোলন চলছে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও সারের সংকট চরমে পৌঁছেছে। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। আমরা জনগণের কষ্টের কথা জাতীয় সংসদে বলার চেষ্টা করছি। কিন্তু সরকার আমাদের কথা বলতে দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা আন্দোলনে নেমেছি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর আল ফারুক সোসাইটির অঞ্চল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত খুলনা অঞ্চল বৈঠকে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এমপির সভাপতিত্বে ও সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপির পরিচালনায় বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান এমপি, মাস্টার শফিকুল ইসলাম, ও হাফেজ রবিউল বাশার এমপি, খুলনা জেলার আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, সাতক্ষীরা জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, খুলনা মহানগরীর সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, জেলার সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, বাগেরহাট জেলা নায়েবে আমীর এডভোকেট শেখ আব্দুল ওয়াদুদ, সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস, বাগেরহাট যুব কমিটির সভাপতি মনজুরুল হক রাহাত এমপি, সাতক্ষীরা জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওমর ফারুক, খুলনা মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি আজিজল ইসলাম ফারাজী, খুলনা মহানগরী অফিস সেক্রেটারি মীম মিরাজ হোসাইন, প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল গফুর, খুলনা জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ ইউসুফ মোল্লা, ইসলামী ছাত্রশিেিবরর মহানগর সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন প্রমুখ। অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ আরও বলেন, খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আজ কেবল একটি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, বরং এটি আমাদের সামগ্রিক সামাজিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতার এক বড় চ্যালেঞ্জ। ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে মহামারি আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন বিভাগের কোনো না কোনো জেলা থেকে নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর মর্মান্তিক খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও বেদনাদায়ক। তিনি বলেন, ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ কীভাবে আমাদের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করতে পারে, খুলনা অঞ্চলের বর্তমান চিত্র তারই এক ভয়ানক প্রমাণ। এই সংকট মোকাবিলায় কেবল চিকিৎসাকেন্দ্রের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না; বরং উৎস থেকেই এডিস মশার বিস্তার রোধ করতে হবে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ প্রতিটি স্থানীয় সরকার সংস্থাকে মশকনিধনে নিয়মিত ও কঠোর অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে প্রতিটি ঘরে ঘরে। জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা এবং আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আজকের এই সংকটময় মুহূর্তে শুধু প্রশাসন বা স্বাস্থ্য বিভাগের দিকে তাকিয়ে না থেকে, আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। আসুন, সম্মিলিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের খুলনা বিভাগকে ডেঙ্গুর এই ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করি এবং একটি নিরাপদ জনপদ গড়ে তুলি। বর্তমানে সরকারি দলের লোকদের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলবাণিজ্য মারাত্মক আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে ইজ্জত উল্লাহ বলেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় খুলনাঞ্চলে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। যা জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। দিনে-রাতে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা, জখম, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজী ও দখলদারির ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন স্থানে ছিচকে চোরের উপদ্রপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈদ্যুতিক তার চুরি থেকে বড় ধনের চুরি ঘটছে। এর পাশাপশি মাদককারবারীদের দৌরাত্ম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিকাংশ অপরাধের সঙ্গে মাদকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে আইন-শৃংখলা বাহিনী। যাকে কেন্দ্র করে খুন-খারাবি ও আধিপত্য নিয়ে অপরাধীদের পরস্পর গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের কারণে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা খুলনাঞ্চলের মানুষকে বিষিয়ে তুলছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দুই একটি ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারলেও সংখ্যার তুলনায় অতি নগন্য। অপরাধীদের পেছনে থাকা প্রভাবশালীদের টিকিটিও ধরতে পারছে না বলেও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ইসলামী নীতির আলোকে নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পন্থায় রাজনীতি করে আসছে উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সংগঠনের মর্যাদাপূর্ণ অবদান রয়েছে। জাতীয় সংসদের অংশীদারিত্বমূলক সকল নির্বাচনেই জামায়াতের প্রতিনিধি ছিল। জামায়াতে ইসলামীর দুইজন মন্ত্রী তিনটি মন্ত্রণালয়ে দেশ ও জাতি গঠনে তাদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কৃতিত্বপূর্ণ ভূমিকার মাধ্যমে দেশবাসীর প্রশংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বর্তমান জাতীয় সংসদেও জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বৈষম্য, দারিদ্র্যমুক্ত এবং মর্যাদাপূর্ণ মানবিক বাংলাদেশ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে চলেছে।



