মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৎস্য সম্পদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করতে হবে-রূপসায় এমপি আজিজুল বারী হেলাল

রূপসা প্রতিনিধি : খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, দেশের নদী-খাল, বিল, প্লাবন ভূমি ও জলাশয় আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ। এসব জলাশয় রক্ষা করা শুধু মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নয়, বরং কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অবৈধভাবে সরকারি খাল, বিল বা জলাশয় দখল করে রাখবে এটি বর্তমান বিএনপি সরকার কোনোভাবে মেনে নেবে না। দখল ও ভরাটের কারণে অনেক জলাশয়ের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র নষ্ট হচ্ছে। তাই অবৈধ দখলে থাকা জলাশয়গুলোকে চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে কঠোর হয়ে সেগুলো দখলমুক্ত করতে হবে। দখলমুক্ত করার পর শুধু জায়গা উদ্ধার করলেই হবে না, সেই জলাশয়গুলোকে কীভাবে সংরক্ষণ ও উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।খাল-বিলের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। বর্ষার পানি যাতে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে এবং প্লাবন ভূমিতে দেশীয় মাছ প্রজনন ও বেড়ে ওঠার সুযোগ পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। এতে একদিকে জলাবদ্ধতা কমবে, অন্যদিকে প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, রূপসা নদী ও বিভিন্ন খাল-বিলসহ প্রাকৃতিক জলাশয়ে একসময় দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ প্রচুর পাওয়া যেত। বর্তমানে জলাশয় ভরাট, দখল, দূষণ, অতিরিক্ত আহরণ ও অবৈধভাবে মাছ ধরার কারণে অনেক দেশীয় মাছের প্রজাতি কমে যাচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে মৎস্য সম্পদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করতে হবে। মাছের অভয়াশ্রম ও প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আজ যে পোনা মাছগুলো জলাশয়ে অবমুক্ত করা হচ্ছে, এগুলো আমাদের ভবিষ্যৎ মৎস্যসম্পদের একটি অংশ। এই পোনাগুলো যাতে নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারে, সেজন্য স্থানীয় জনগণকেও দায়িত্ব নিতে হবে। কেউ যেন অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছের পোনা নিধন না করে এবং বিষ বা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার না করে, সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে। তাই খুলনা-৪ আসনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৎস্য সম্পদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি, মৎস্য ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে খাল খননের যে যুগান্তকারী নীতি গ্রহণ করেছিলেন, সেটি ছিল মানুষের জীবন-জীবিকা ও দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি দূরদর্শী উদ্যোগ। সেই নীতির ধারাবাহিকতায় বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমানে খাল খনন ও পুনঃখননের কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। খাল খনন মানে শুধু পানি চলাচলের পথ তৈরি করা নয়, এর সঙ্গে কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও মানুষের জীবিকা সরাসরি জড়িত। খালগুলো দখল ও ভরাটমুক্ত করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা গেলে বর্ষায় প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ খাল-বিলে প্রবেশ করতে পারে, পোনা মাছ বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি হয় এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এতে জেলে ও মৎস্যজীবী মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য হবে মাছের যোগান। তাই খাল খননের পাশাপাশি খালগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখা এবং মৎস্যসম্পদের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপি সবসময় কৃষক, শ্রমিক, জেলে ও সাধারণ মানুষের অধিকার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলে। বিএনপি জনগণের দল। দেশের মানুষের দুঃসময়ে বিএনপি রাজপথে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকবে। রাষ্ট্রের সম্পদ ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, এগুলো জনগণের কল্যাণে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ বুকে ধারণ করে আমাদের সকলকে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যেতে হবে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে একটি জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই একমাত্র বিএনপির লক্ষ্য।তিনি গতকাল (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রূপসা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসারের কার্যালয়ের আয়োজনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মৎস্য অধিদপ্তরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় প্লাবন ভূমি, বর্ষাপ্লাবিত ধান ক্ষেত ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এমপি আজিজুল বারী হেলাল মোট ১৬টি জলাশয়ের মাঝে মৎস্যের পোনা বিতরণ করেন। পরে তিনি ঘাটভোগ ইউনিয়নের পুঁটিমারি খাল, উপজেলা পরিষদ চত্বর ও রূপসা থানা চত্বরের পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন রূপসা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার জাহিদ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জ্যোতি কনা দাস, রূপসা থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুস সবুর খান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্য সাইফুর রহমান, জাবেদ হোসেন মল্লিক, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য আনিচুর রহমান, আরিফুর রহমান, মোল্যা রিয়াজুল ইসলাম, আছাফুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক গোলাম মোস্তফা তুহিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হুমায়ুন কবীর, ইলিয়াজ হোসেন, খান আনোয়ার হোসেন, মহিউদ্দিন মিন্টু, দিদারুল ইসলাম, মিকাইল বিশ্বাস, ফিরোজ মাহমুদ, শামীম হাসান, খান আলিম হাসান, জাহিদুল ইসলাম রবি, মোকাররম হোসেন, তরিকুল ইসলাম রিপন, এসএম আবু সাঈদ, নাঈম আহম্মেদ, মোস্তাহিন শিকদার, গোলাম রসূল, জাহিদ শেখ প্রমূখ।



