স্থানীয় সংবাদ

অবশেষে গ্রেপ্তার হলো তেরোখাদা আ’লীগের কথিত ‘মোল্লা বাহিনী’র প্রধান

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনার তেরোখাদা উপজেলার ৫ নম্বর তেরোখাদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অহিদুজ্জামান ওরফে ফরিদ মোল্লার নেতৃত্বে গঠিত কথিত ‘মোল্লা বাহিনী’র প্রধান ফরিদ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ। সোনাডাঙ্গা বউবাজার এলাকায় ২৩/২৫ জন আওয়ামী লীগ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদ মোল্লার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১০ সালে তেরোখাদা থানায় আপন দুই ভাইকে হত্যার মামলার প্রধান আসামি , ২০২৪ সালে শাহবাগ থানায় নাশকতার মামলা, ২০২৪ সালে খুলনার দিঘলিয়া থানায় নাশকতার মামলা এবং ২০২৬ সালে এক স্কুলশিক্ষককে হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অহিদুজ্জামান ওরফে ফরিদ মোল্লার কথিত ‘মোল্লা বাহিনী’ তেরোখাদা উপজেলায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে এবং এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অনেকেই তার কথিত মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অনেকের বিরুদ্ধে কোনো কারণ ছাড়াই একাধিক মামলা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ভারতের একটি কোম্পানির সঙ্গে প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ফরিদ মোল্লার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি জমি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং তার কথিত চাহিদা অনুযায়ী জমি না দিলে হামলা-মামলার শিকার হতে হতো বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের কয়েকজন। আপন দুই ভাইকে একসঙ্গে হত্যার ঘটনায়ও ফরিদ মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি এলাকায় নিজেকে অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রভাবশালী এই নেতা দীর্ঘদিন গ্রেপ্তার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করত। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি আদালতপাড়ায় প্রকাশ্যে আইনজীবীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগেও তিনি আলোচনায় আসেন। তবে সম্প্রতি সোনাডাঙ্গা বউবাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করার সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তেরোখাদায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “ঘটনা সত্য। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে মিটিংরত অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” ৫ নম্বর তেরোখাদা ইউনিয়নের বাসিন্দা সাগর ইসলাম বলেন, “আমরা এলাকাবাসী এখন স্বস্তিতে ও নিরাপদে বসবাস করতে পারব। কিছুদিন আগেও একজন স্কুলশিক্ষককে তার বাহিনীর সদস্যরা কুপিয়ে জখম করেছিল। অথচ এতদিনেও প্রশাসন তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।” জাহিদুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, “আমার আপন ভাইকে নিঃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করেছে এই বাহিনী। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।” ফরিদ মোল্লার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের সত্যতা এবং মামলাগুলোর বর্তমান আইনগত অবস্থাও সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button