সম্পাদকীয়

সার পাচারকারীদের ধরতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে

দেশের কৃষক প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না, পেলেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। চাহিদা মেটাতে সার আমদানি করা হচ্ছে। এমন সংকটকালেও হাজার হাজার বস্তা সার মিয়ানমারে পাচার করছে একটি চক্র। আর এর বিনিময়ে দেশে আসছে ইয়াবার মতো ভয়াবহ মাদকের চালান। গতকাল দেশের কয়েকটি পত্র পত্রিকার খবরে এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে সারের চাহিদা বেশি হওয়ায় দামও বেশি। দেশে বস্তাপ্রতি যে সারের দাম এক হাজার ৩৫০ টাকা, মিয়ানমারে সেই বস্তার দাম আট হাজার টাকা। এ কারণে রাতারাতি টাকা বানানোর জন্য কক্সবাজারের একটি চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জানা গেছে, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে রয়েছে সারপাচারে অন্তত ১৫টি চক্র। এসব চক্রে শতাধিক রোহিঙ্গাও আছে। সার পাচার করলেই মিলছে মোটা টাকা। এ কারণে সারপাচারে সিন্ডিকেটের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। এরই মধ্যে ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি পয়েন্ট সারপাচারের জন্য কুখ্যাতি পেয়েছে। উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আঞ্জুমানপাড়া দিয়েই সবচেয়ে বেশি সার পাচার হচ্ছে। এ ছাড়া টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া, হারাইঙ্গাঘোনা, ঝিমংখালী, কানজরপাড়া, তুলাতলী, কোনারপাড়া ও আমতলী এবং টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা দমদমিয়া খাল, হ্নীলা বাজার ও স্টেশন এবং রঙ্গিখালী পয়েন্ট দিয়েও সার পাচার হচ্ছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সাগরপথে সারের বড় বড় চালান পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে। বড় চালানের সার পাচার হচ্ছে সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়া ও হাতিয়া থেকেও। চট্টগ্রামের বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) রাঙ্গাদিয়া গুদাম থেকে দ্বীপ তিনটির জন্য বরাদ্দ করা সারের চালান মাছ ধরা নৌকা বোঝাই করে দ্বীপে না গিয়ে সরাসরি মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে বলে খবরে বলা হয়েছে। এদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানও চলছে। বিগত তিন মাসে চার হাজার বস্তা সার পাচারের সময় উদ্ধার করে কোস্ট গার্ড। এ ছাড়া বিজিবির অভিযানে প্রায় ১৯ হাজার ৭৫০ কেজি সার জব্দ করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এসব অভিযান পর্যাপ্ত নয়। ভুক্তভোগী এক কৃষকের হাহাকার উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। তিনি বলেন, ‘৬০ কেজি সারের জন্য হন্যে হয়ে ডিলারের কাছে ঘুরেও লাভ হয়নি। অথচ আমাদের সামনে দিয়েই মিয়ানমারের রাখাইনে বস্তা বস্তা সার পাচার হয়ে যাচ্ছে। এদিকে আমাদের ক্ষেতের ধানের চারা লাল বর্ণ ধারণ করেছে।’ সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, কিছু ডিলারও এই পাচার চক্রে জড়িত। গত ৫ সেপ্টেম্বর দুজন ডিলারকে ৩০০ বস্তা সারপাচারের চেষ্টাকালে আটক করা হয়। হতাশার বিষয় হলো, ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। জানা গেছে, কক্সবাজার জেলার ৯টি উপজেলার ৭১টি ইউনিয়নে ১৬৪ জন সরকারি সারের ডিলার রয়েছেন। বিগত সরকার আমলে নিয়োজিত এসব ডিলারের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে সারপাচারের অভিযোগ পুুরনো। কিন্তু কোনো অভিযোগেই ডিলারদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা মনে করি, যে করেই হোক, সারপাচার বন্ধ করতে হবে। সীমান্তে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও সার বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে যেসব ডিলারের বিরুদ্ধে সারপাচারের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button