ইরানি হামলায় বিপর্যস্ত মার্কিন বাহিনী

# পেন্টাগনের গোপন প্রতিবেদন #
# হামলায় মার্কিন ঘাঁটিতে ধ্বংস শত শত ভবন ও ড্রোন #
প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে, পেন্টাগনের এক গোপন প্রতিবেদনে তার চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে। এতদিন ওয়াশিংটন বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করলেও প্রতিরক্ষা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল কার্যালয়ের ওই নথিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত চার মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র শত শত ভবন ও সামরিক স্থাপনা হারিয়েছে। এ সময়ে অন্তত ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনসহ বহু যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। শুধু অস্ত্রের পেছনেই ওই চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে সংঘাতের মোট ব্যয় ছাড়িয়ে গেছে ৩৩ বিলিয়ন ডলার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যতই যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভা-ার অফুরন্ত বলে দাবি করুন না কেন, পেন্টাগনের প্রতিবেদনে অস্ত্রের ঘাটতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকটের কথা উঠে এসেছে। ইরান ও তাদের মিত্রদের লাগাতার হামলায় কুয়েত, সৌদি আরব, ইরাক ও জর্ডানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটির শত শত অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। হামলায় সরাসরি সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং চার শতাধিক সেনা আহত হয়েছেন। আকাশ ও মাটিতে ধ্বংস হওয়া সামরিক যানের তালিকায় রয়েছে এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান, অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ স্টিলথ বিমান, রিফুয়েলিং ট্যাংকার এবং বিভিন্ন ধরনের হেলিকপ্টার। শুধু সামরিক ঘাঁটিই নয়, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন কূটনৈতিক মিশন ও দূতাবাসগুলোতেও দফায় দফায় হামলা হয়েছে। এসব কূটনৈতিক স্থাপনা মেরামত ও নিরাপত্তা জোরদার করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ থাকা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।


