খালিশপুর হাউজিং ১নং ক্যাম্প মাদকের রমরমা হাট! বিক্রেতারা ভোল পাল্টিয়ে এখন বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টারঃ ১নং ক্যাম্পের সামনে শিয়া মসজিদ মোড়ে দিন রাত ২৪ ঘন্টাই মাদক বিক্রি হচ্ছে অনেকটাই প্রকাশ্যে। এসব বিক্রেতারা আগে আ’লীগের মিছিল মিটিং-এর আগেভাগে থাকতো এখন তারা ভোল পাল্টিয়ে বিএনপির মিছিল মিটিং-এ যেতে শুরু করেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক শেল্টারে তারা অবাধে মাদক বিক্রি করছে বলে স্থানীয়রা জানান। এখানকার সবচেয়ে বড় মাদক বিক্রেতা আলাউদ্দীন আকাশ। তিনি এখন অফিস খুলে ভদ্রভাবে গাড়ির ব্যবসা করছেন। কেউ যাতে তার মাদক ব্যব্সার কথা জানতে না পারে। তিনি এ ব্যব্সার আড়ালেই মাদকের রমরমা ব্যবসা করছেন। প্রতিদিন ছোট পিকআপে করে বস্তা ভরে গাজা আনছেন। ডি লাইনের পাশে জনৈক সুন্দরীর দ্বিতীয়তলা বাড়িতে রাখে। ওখান থেকে গাজা ১নং ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়ে। নিজেদের ঘরে মাদক না রেখে ক্যাম্পের ভিতর অন্যের ৪/৫ টি ঘর আছে। এই গাজা বস্তাভরে রাখার জন্য। মাঝে ডিবি পুলিশ মুহসিনের ঘর থেকে এ গাজার বস্তা উদ্ধার করে। কয়েক দিন মুহসিনের স্ত্রী গাজার বস্তা তার ঘরে রাখার জন্য মাদক বিক্রেতাদের নিকট ভাড়া দেন। ঘরে নিরাপদে গাজার বস্তা রাখার জন্য মাদক বিক্রেতারা মাসে ৫/১০ হাজার টাকা ভাড়া দেয়। বালুর মাঠে চলে দিন রাত মাদক বিক্রি। সেলিম, আনজুম, আন্না, আল আমিন, সাজ্জাদসহ ১০/১৫ জনের একটি চক্র এ মাদক বিক্রির সাথে জড়িত। সাজাদকে গত কয়েকদিন আগে ডিবি পুলিশ ধরে গাজাসহ। এই সাজ্জাদ কিষাণ হিসেবে গাজা বিক্রি করে। প্রতিদিন তাকে মাদক ব্যবসায়ীরা ৫/৬শ’ টাকা মজুরী দেয়। এরকম ৫/৬ জন বিক্রেতা রয়েছে। তারা শুধু গাজা বিক্রর জন্য দিন মজুর পেয়ে থাকে। আর পুলিশ গ্রেফতার করলে তাকে জামিন করাতে সব খরচ খরচা বহন করে মাদক ব্যবসায়ীরা। তবে মজার ব্যাপার হলো এক গ্রুপের ক্যাম্পে গাজা আরেক গ্রুপ ইয়াবা বিক্রি করে। এদের সাথে খুবই মিল মহব্বত। ইয়াবা বিক্রির তালিকায় রয়েছে, রফিক, জনি, আল আমিন, শিমুল, আব্দুল্লাহসহ ১০/১২ জনের একটি টিম। ভোর ৬টা থেকে এদের মাদক বিক্রি শুরু হয়্ চলে সারা রাত। বিক্রেতারা হেঁটে হেঁটে মাদক বিক্রি করে। এদের পাহারা দেয় ছোট ছেলে মেয়েরা। এলাকায় পুলিশ আসলেই তারা খবর পৌঁছে দেয় মাদক বিক্রেতাদের নিকট। এলাকার মানুষ জানায়, এসব মাদক বিক্রেতারা আগে আ’লীগের মিছিল মিটিং-এর আগেভাগে থাকতো। এখন বিএনপির মিছিল মিটিং-এর আগেভাগে থাকছে। এজন্য সাধারণ মানুষ ভয়ে এদের ব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ। তবে কুখ্যাত মাদক বিক্রেতা সেলিমসহ অন্যদের শেল্টার দেয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা। তার নাম “শা” পাটোয়ারী। তিনি এলাকায় ব্যাপক শোডাউন দেন। ১২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সমম্পাদক শিমুল বলেন, ১নং ক্যাম্পে মাদকে ছেয়ে গেছে। আমার নামেও একজন মাদক বিক্রেতার রয়েছে ক্যাম্পে। তার কারণে অনেক সময় বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়। মাদক ব্যবসায়ী আলাউদ্দীন আকাশ বলেন, এখন আমি মাদক ব্যবসা করি না। আগে করতাম। এখন অফিস দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করে খাই। সন্তানরা স্কুলে পড়ছে। মাদকের সাথে জড়িত থ্কালে সন্তানদের মুখ দেখা যায় না। এসব কথা ভেবে আমি মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি বলে তিনি দাবী করেন। খালিশপুর থানার ওসি বলেন, মাদকের ব্যাপারে কোন ছাড় নেই। প্রতি দিনই চেকপোষ্ট বসিয়ে অভিযান চলছে। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা সম্ভব বলে তিনি জানান।



