প্রশাসনে চাই প্রত্যাশিত গতি

# অনুষ্ঠিত হলো সচিব সভা #
বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হলো সচিব সভা। সাধারণত নতুন সরকার গঠনের দু-তিন মাসের মধ্যে সচিবদের এই সভা হয়ে থাকে। এবার সরকার গঠনের প্রায় সাত মাস পর সভাটি অনুষ্ঠিত হলো। সংগত কারণেই এই সভার কার্যবিবরণীর দিকে নজর ছিল পর্যবেক্ষকমহলের। সভার আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে চারটি বিষয় থাকলেও এর বাইরে সরকারের কর্মকা-, প্রশাসনের সক্ষমতা, জনগণের প্রত্যাশা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। মন্ত্রিপরিষদসচিব ড. নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৬২ জন সচিব উপস্থিত ছিলেন। আমরা দেখেছি, নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জনবান্ধব কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। চলমান সংকট মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনার কথা বারবার বলা হচ্ছে। তবে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এক ব্যাপার, আর সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ভিন্ন ব্যাপার। সরকারের সিদ্ধান্ত সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন দক্ষ প্রশাসন। জনগণের দোরগোড়ায় সরকারের সেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজটি মূলত করে থাকে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর। কিন্তু আমাদের দেশে এ নিয়ে জনমনে নানা অভিযোগ-অনুযোগ রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সচিব সভা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। জানা গেছে, সভায় সরকারের বর্তমান কর্মকা- কিভাবে আরো কার্যকর করা যায়, জনগণের প্রত্যাশা কিভাবে পূরণ করা যায় এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের গতি কিভাবে বাড়ানো যায়Ñএসব বিষয় গুরুত্ব পায়। দেশে জ্বালানিসংকট চলছে। এ নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়েছে। জ্বালানিসংকট সমাধানে সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-৩০)’ নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা হয়। প্রশাসনে সমন্বয়হীনতা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। কয়েকজন কর্মকর্তা এ বিষয়ে মতমত তুলে ধরে বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় না থাকায় কাজের গতি কমে যায়। এ ছাড়া একই বিষয়ে একাধিক সংস্থা কাজ করলে তাদের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যায় না। তাই সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি তা দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর যে বিষয়টি নাগরিক সমাজের নজর কেড়েছে, তা হলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিক তৎপরতা। তিনি বিভিন্ন কার্যালয়ে হুটহাট হাজির হচ্ছেন। সঠিক সময়ে অফিসে হাজির থাকার ব্যাপারে তাগিদ দিচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর এসব পদক্ষেপ প্রশাসনে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে। বিশেষজ্ঞমহল মনে করে, প্রশাসনে গতি ফেরাতে আমূল সংস্কার জরুরি। সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তি সহজ করতে সচিবদের আরো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও। প্রশাসনে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে অনেক অনিয়ম রোধে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে। সব শেষে সচিব সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো যেন কাগজ-কলমে আটকে না থাকে। সরকারি পরিষেবা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে এসব সিদ্ধান্তের প্রতিফলন হোক। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দিন পেছনে ফেলে প্রশাসনে কাক্সিক্ষত দক্ষতা ও গতির সঞ্চার হোকÑএটাই কাম্য।
