জাতীয় সংবাদ

নভেম্বর-ডিসেম্বরে ইউপি ভোটের ‘স্লট’ এখন খুঁজে পাচ্ছে না ইসি!

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ গত সোমবার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ দিয়ে আগামী নভেম্বর থেকে ভোট করার পরিকল্পনার কথা জানালেও এখন নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে উল্টো কথা। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে চারদিনের মাথায় উঠে এসেছে, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে ইউপি ভোট করতে হলে আগে ‘স্লট’ পেতে হবে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, আমরা ইউনিয়ন পরিষদ নিয়েই আজকে মূলত আলোচনা করেছি। অন্যান্য নির্বাচনের ব্যাপারেও আমরা আইন অনুযায়ী যখন যেটা করার প্রয়োজন তখন সেটা করব। আগেতো আমাকে স্লটটা পেতে হবে নির্বাচন করার জন্য। এবারে আমাদের স্পেশালিটি হচ্ছে পুরা নভেম্বর এবং ডিসেম্বর জুড়ে হচ্ছে পরীক্ষা। পুরাটা অলমোস্ট। খুবই গ্যাপ কম পাওয়া গেছে। আমরা দুটো জায়গার কথা বলেছিলাম (গ্যাপ)। কিন্তু এখন আবার দেখতে হবে আমাদের আজকের প্রাপ্ত উপাত্তের উপর ভিত্তি করে, যে ওগুলো আদৌ সম্ভব কিনা। তিনি বলেন, আমরা জানুয়ারিতে ফাঁকা সময় পাচ্ছি কিছুটা। আপনারা এটাও জানেন, যে ৭ বা ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আবার রোজা শুরু। রোজা শেষ হওয়ার মাত্র একদিন পর থেকে আবার এই এসএসসি পরীক্ষা শুরু। এসএসসি শেষে আবার গিয়ে ওই জুন মাসের ৬ তারিখে এইচএসসি শুরু। মাঝখানে আবার একটা সময় পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের এবারে স্পেসগুলো খুব টাইট। তো এই টাইট সময়ের মধ্যে কিভাবে আমরা সব একোমোডেট করবো এটা নিয়েই আরো একটু সাইডলাইন ওয়ার্ক করা দরকার আছে। আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আমাদের প্রাথমিক যে পরিকল্পনাটা ছিল সেই পরিকল্পনাটার উপরে তারা সবাই মতামত দিয়েছেন। আমরা এটা নিয়ে কমিশনেও বসবো। প্লাস আমাদের সচিব মহোদয় তার যে স্টাফ লেভেলে, প্লাস সাচিবিক লেভেলে যে সমন্বয়গুলো করা প্রয়োজন সেগুলো উনি সম্পন্ন করবেন। এর আগে গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশেষ কমিশন সভা শেষে এই নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করার বিষয়ে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন-দেশের মোট ইউনিয়ন ৪ হাজার ৫৮০ টি। এই সব ইউনিয়নে সাত ধাপে ভোট করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য তারিখগুলো হলো- প্রথম ধাপের তারিখ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, ৩য় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর। ৪র্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি। ৫ম ধাপ আগামী বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি, ৬ষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল, ৭ম ধাপ ২৭ মে। পরে এই খবর গণমাধ্যমে এলে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করেই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করবে। নির্বাচন কমিশন আইন দ্বারা পরিচালাতি হয়। তার দায়িত্ব হচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও সংসদ নির্বাচন করা। এক্ষেত্রে ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর স্থানীয় নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হবে। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ব্যাপারে আজকের সভায় আমি যদি এক লাইনে কনক্লুশনটা বলি সবাই এটা সম্মত হয়েছেন, যে আমাদেরকে এই নির্বাচনটা পারতপক্ষে ৬ জুনের আগেই সম্পন্ন করতে হবে, এইচএসসি পরীক্ষার আগে। এখানে কতগুলো বিষয় এসেছে বিশেষ করে শিক্ষা, এবারের বন্যার কারণে যে ইন্টারভেনশন যেগুলো হয়েছে সেটার জন্য এবং মাধ্যমিক শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে যে প্রভাবটা পড়েছে, তারা এখনো এটা কাটিয়ে উঠেননি। পাশাপাশি এখানে উনারা কতগুলো অনুরোধ আমাদেরকে করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যাতে করে পরীক্ষাগুলো ব্যাহত না হয়। তিনি বলেন, আমাদের একজন শিক্ষককে অন্ততপক্ষে এক সপ্তাহের জন্য প্রয়োজন হয় প্রশিক্ষণ, সমন্বয় এবং ডিউটির জন্য। কিন্তু তারা যেন তাদের পরীক্ষার মূল্যায়নের কাজটা করতে পারেন। প্রাক প্রস্তুতির কাজগুলো করতে পারেন। প্লাস পরীক্ষা যেন ব্যাহত না হয়। আমরা বলেছি ডেফিনেটলি এগুলো জেনুইন কনসারনস এবং এগুলো আমরা অ্যাড্রেস করব। আমরা উপলব্ধি করেছি যে আরো দুই একটা বোধহয় সাইডলাইন ওয়ার্ক আমাদেরকে করতে হবে। সাইডলাইন কোঅর্ডিনেশনের কাজ আছে ইনক্লুডিং আমাদের বাজেট প্ল্যানিং, সেটাও অতি শীঘ্রই আমরা সম্পন্ন করব। সো এগুলো সম্পন্ন করে আমরা যত দ্রুত সম্ভব সুনির্দিষ্ট তারিখ আপনাদেরকে জানিয়ে দিব। এক প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমি বলেছি কি যে হচ্ছে বা হচ্ছে না। আমরা বলেছি যে আজকে যে উপাত্ত পেয়েছি, আম কোনো কমিশন মিটিং করি নাই এই উপাত্তের আলোকে কমিশন একটা সিদ্ধান্ত নেবে। আমার মনে হয় এখানে একটা জিনিস স্পষ্ট করা দরকার, যে আপনারা নিউজটাকে কিভাবে ট্রিট করেন তার উপরে কিন্তু অনেক ইমপ্লিকেশনস আছে। আমরা ব্রিফিং এ বলেছিলাম এটা একটা টেন্টেটিভ শিডিউল। এবং বলেছিলাম এটা প্রাক প্রস্তুতিমূলক সভার আলোকে এটা প্রস্তুতকৃত। আপনারা যদি এটা খেয়াল করে থাকেন, আমরা সামান্যতম কোন খান থেকে সরে আসি নাই সেটাই বলছি। আজকে আর আমরা যে উপাত্ত পেয়েছি এটার ওপর পরে চূড়ান্ত করব। নভেম্বরে নির্বাচন শুরু হবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমি কি এখন একা বলতে পারব এটা? আমরা তো পত্রগুলো পেলাম। এটা নিয়ে আমরা কমিশনে বসবো। এখন বসে তারপরে আমরা নির্দিষ্ট করব। আমরা আরো দুই একটা সাইডলাইন বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবো। তিনি আরো বলেন, আমরা চেয়েছিলাম যে ধাপ যদি বেশি হয় তাহলে একটু ফ্লেক্সিবিলিটি বেশি থাকে। আমাদের ফ্লেক্সিবিলিটির জায়গাটা কতটুক, এর মধ্যে যে কয়টা ধাপ আমরা একোমোডেট করতে পারি, একোমোডেট করতে হবে। এবং ডেফিনেটলি আইনের মধ্যে থেকে আমরা যাতে নির্বাচনটা সম্পন্ন করতে পারি এটাই হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের প্রত্যাশা। স্থানীয় নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা সভা বাতিল করল ইসি। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের উপযোগী সময় বা স্লট না পাওয়ার কথা জানানোর পরপরই এবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পূর্বনির্ধারিত সভা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ইসির উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিতে জানানো হয়, আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠেয় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভাটি বাতিল করা হয়েছে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, ১৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ায় পুনরায় পৃথক সভার প্রয়োজন নেই। চিঠির অনুলিপি জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকার সচিব, মহাপুলিশ পরিদর্শক, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং বিজিএমইএ, বিজিবি, র‌্যাব, এনএসআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের পাঠানো হয়েছে। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর সরকারের ২৬টি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আগামী জানুয়ারির আগে নির্বাচনের সুযোগ বা গ্যাপ নেই। তবে ২০২৭ সালের ৬ জুনের মধ্যে সব স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে সবাই সম্মত হয়েছেন। অন্যদিকে, ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য আসনের তফসিল অনুযায়ী-মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৭ সেপ্টেম্বর, বাছাই ২৯ সেপ্টেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ৮ অক্টোবর এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ অক্টোবর।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button