ইতালির পথে নৌকাডুবি : ৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে আট বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। নিহতদের একজনের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে মানবপাচারকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ। তিনি জানান, সিআইডির মানবপাচার ইউনিটের (টিএইচবি) একটি দল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মাদারীপুরের রাজৈর থানার টেকেরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-মাদারীপুরের রাজৈর থানার পূর্ব সরমঙ্গল গ্রামের মৃত আশরাফ আলী বাঘার ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম রফিক বাঘা (৫৪) এবং গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার কানোরিয়া গ্রামের মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. আমির হোসেন স্বপন (৩৮)। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিককে লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইতালি পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় তিউনিসিয়া উপকূলের কাছে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে আট বাংলাদেশি মারা যান। পরে নিহতদের মরদেহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই ঘটনায় বেঁচে ফেরা একমাত্র ভুক্তভোগী আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করেন। সিআইডির তদন্তে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র ভুক্তভোগীদের বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাদের পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেয়। পরে তাদের অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে সমুদ্রপথে ইতালি পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তিউনিসিয়া উপকূলে ট্রলারটি ডুবে গেলে আট বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়। সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা নিহত ভুক্তভোগী রাসেল শেখের (১৯) পরিবারের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ, মানবপাচারকারী চক্রের অন্য সদস্যদের কাছে সেই অর্থ পৌঁছে দেওয়া এবং তাকে বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছিলেন। গ্রেপ্তার দুজনকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সিআইডি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদারীপুরের রাজৈর থানায় গত ১৪ মে মামলা নম্বর-২৪ দায়ের করা হয়। মামলায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৬, ৭, ৮, ৯ ও ১০ ধারা এবং দ-বিধি, ১৮৬০-এর ৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি, পলাতক আসামি এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্তের পাশাপাশি সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদেরও শনাক্তের চেষ্টা চলছে। সিআইডি জানায়, এ মামলায় এর আগে গুরুদাস বারই (৪৫) ও মো. মোতলেব মাতব্বর (৬৮) নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যথাযথভাবে যাচাই করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি করলে, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখলে অথবা ভিসা জালিয়াতি, মানবপাচার কিংবা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ হলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সিআইডিকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।



