জাতীয় সংবাদ

‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাবেন না’ : গোলাম পরওয়ার

প্রবাহ রিপোর্ট : সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যেতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। জোটটির নেতারা বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ক্ষমতা দেখাতে গিয়েই অতীতে অনেকে কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী চরিত্র অর্জন করেছেন। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারকে সেই পথ থেকে ফিরে আসতে হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে এ আহ্বান জানানো হয়। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
১৯ সেপ্টেম্বর সাত দফা দাবিতে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের প্রস্তুতি ছিল বৈঠকের প্রধান আলোচ্য। পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, পৃথিবীর কোনো ইতিহাসে গণভোটের রায় বাতিলের ঘটনা নেই। কিন্তু গণতন্ত্রের নামে ক্ষমতায় যাওয়া সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ৭০ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রত্যাখ্যান করে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করেছে।
তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে বলে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাওয়া উচিত নয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কোরআন-সুন্নাহর আইন পরিবর্তন করে হেবা আইনে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায়ও পদদলিত করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দীর্ঘদিনের আইন পরিবর্তন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এখান থেকে আমরা সরকারকে ফিরে আসতে বলব।’
তিনি জানান, সকাল ১১টায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হয়। লংমার্চের প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক সংকট নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। গোলাম পরওয়ার বলেন, সাত দফা দাবি সামনে রেখে আন্দোলন আরো গতিশীল করা এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে গণভোটকে উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের যে প্রক্রিয়া নিয়েছে, ১১ দলীয় ঐক্য তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এ প্রক্রিয়ার বিশেষ কমিটির একতরফা কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগেরও বিরোধিতা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
১৯ সেপ্টেম্বর লংমার্চ : গোলাম পরওয়ার জানান, শনিবার সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উদ্বোধনী জনসভা হবে। এরপর গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে। পথে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে প্রথম, টাঙ্গাইলের জালফৈ বাইপাস মোড়ে দ্বিতীয় পথসভা হবে।
এরপর যমুনা সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে যোহরের নামাজ আদায় করা হবে। পরে বগুড়ার মাটিডালি ও সন্ধ্যায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে। সবশেষে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে লংমার্চ শেষ হবে। প্রকাশিত কর্মসূচির তথ্যেও গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পাঁচটি পথসভা এবং রংপুরে সমাপনী সমাবেশের কথা বলা হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চে যুক্ত হতে চাইলে গাড়িবহরের পেছনে নিজ নিজ জেলার গাড়িবহর যুক্ত হবে। সাংস্কৃতিক বিভাগের গাড়িসহ স্বেচ্ছাসেবক, নিরাপত্তা, মেডিকেল, অ্যাম্বুলেন্স, তথ্যপ্রযুক্তি ও মিডিয়া বিভাগের ৮ থেকে ৯টি গাড়ি থাকবে। অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের গাড়িতে খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে নিতে বলা হয়েছে।
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আশ্বাস : লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন গোলাম পরওয়ার। কর্মসূচির কারণে কোনো সমস্যা হলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন, সিভিল সোসাইটি, ট্রাফিক, গোয়েন্দা সংস্থা এবং পথে থাকা প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, ১১ দলের কর্মসূচি হবে সহিংসতামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ। কোনো অনিয়মতান্ত্রিক অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা বা ভাঙচুরের চিন্তা তাদের নেই। তবে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইলে সেই চিন্তা থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, হতে দেব না। তাহলে অহেতুক কেন আপনি পায়ে পাড়া দিয়ে গন্ডগোল করে শান্ত দেশকে অশান্ত করে তুলবেন?’
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button