সম্পাদকীয়

কৃষিতে উৎপাদন বাড়ানোর সময়োপযোগী উদ্যোগ নিতে হবে

জনবহুল বাংলাদেশে দিন দিন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে কমছে ফসলি জমি। এমন প্রেক্ষাপটে দেশের মানুষের খাদ্যের জোগান দিতে সীমিত জমিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিষয়টি অপরিহার্য হয়ে দেখা দিয়েছে। দেশের কৃষির ভিত্তি টেকসই করতে এক ও দুই ফসলি জমিকে তিনফসলি জমিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে কৃষকদের আধুনিক সেচব্যবস্থার আওতায় আনা, চুক্তিভিত্তিক কৃষি বা কন্ট্রাক্ট ফার্মিং চালুসহ কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সমাবেশের কথা ভাবা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৮৮ লাখ ২৯ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে প্রায় ৭৮ লাখ ৭৯ হাজার হেক্টর জমি সেচের অধীন। আবাদযোগ্য জমির মধ্যে একফসলি জমি ২১ লাখ ১০ হাজার হেক্টর, দুইফসলি জমি ৪১ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর, তিনফসলি জমি ১৮ লাখ ৬৭ হাজার হেক্টর এবং চারফসলি জমি ২৩ হাজার হেক্টর। দেশে নিট ফসলি জমির পরিমাণ ৮১ লাখ ২৬ হাজার হেক্টর। তবে একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদিত হওয়ায় মোট ফসলি জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৬০ লাখ ৫৭ হাজার হেক্টর। দেশের মোট আবাদি জমির প্রায় ২৬ শতাংশ এখনো একফসলি। ৮-৯ মাস জমি অনেকাংশে পতিত থাকে। অন্যদিকে আবাদি জমির প্রায় অর্ধেকই দুইফসলি। এসব জমিতে সাধারণত বোরো ও আমনÑএই দুটি প্রধান ফসল উৎপাদিত হয়। বর্তমানে মোট আবাদি জমির প্রায় ২২ শতাংশে বছরে তিনটি বা তার বেশি ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে। জানা গেছে, যেসব জমি পতিত এবং যেখানে সেচ সুবিধা নেই, সেসব জমিকে কৃষিকাজের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। কৃষিবিজ্ঞানীরা বলছেন, বাংলাদেশের সব অঞ্চলের জমির প্রকৃতি এক নয়। ভৌগোলিক অবস্থান, মাটির ধরন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এবং সেচ সুবিধার পার্থক্যের কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে ফসলের ধরন ও ফলন ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই অঞ্চলভেদে জমির উপযোগিতা বিবেচনা করেই এক ও দুই ফসলি জমিকে তিনফসলি করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের দেশ কৃষিনির্ভর, কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, দেশের কৃষি খাত এখনো অবহেলিত। কৃষকরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পান না। বিপণনে রয়েছে অব্যবস্থাপনা। আমরা মনে করি, দেশের কৃষিকে যুগোপযোগী করতে হলে এসব অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে। কালক্ষেপণ না করে দেশের কৃষিকে আধুনিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button