খালিশপুরে কুখ্যাত মাদক স¤্রাট সাদ্দাম গ্রেফতার হলেও বন্ধ হয়নি কারবার

হাল ধরেছে স্ত্রী ও ছোট ভাই
স্টাফ রিপোর্টার ঃ নগরীর খালিশপুরে কুখ্যাত মাদক স¤্রাট সাদ্দাম হোসেন ওরফে বিহারী সাদ্দাম (৩৬) এখন কারাগারে থাকলেও মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়নি। তার মাদকের পয়েন্ট চাপের মুখেও যথারীতি চলছে। তার পয়েন্টে পুলিশী তৎপরতা বৃদ্ধি করলেও যখন পুলিশ থাকছে না তখনই মাদক বিক্রি শুরু হচ্ছে। এর পরিচালনা করেন তার স্ত্রী ও ছোট ভাই। বিগত দিনেও এই সাদ্দাম একাধিকবার গ্রেফতার হলেও তার স্ত্রী ও ছোট ভাই মাদক পয়েন্ট টিকিয়ে রাখতেন।
কেএমপির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কেএমপি‘র খালিশপুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে এলাকার কুখ্যাত মাদক সম্রাট, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী ও চোরাকারবারী, দু’ টি জিআর ওয়ারেন্ট মূলে সাদ্দামকে গ্রেফতার করা হয়।।
খালিশপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস টিমের অফিসার ও ফোর্সের সহায়তায় বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা সদর থানাধীন ময়লাপোতা এলাকা হতে ১৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে খালিশপুর থানা এলাকার কুখ্যাত মাদক সম্রাট, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, নাশকতাকারী ও চোরাকারবারী আসামী সাদ্দাম ওরফে মারুয়া সাদ্দাম ও ওরফে বিহারী সাদ্দামকে (৩৬) গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত সাদ্দাম নগরীর খালিশপুর নয়াবাটি এনআর-৭৯ রোড নং-২৮-এর বাসিন্দা মোঃ সেলিমের ছেলে।
থানার রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে আসামী সাদ্দাম ওরফে মারুয়া সাদ্দাম (৩৬) এর বিরুদ্ধে ২২টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১১ টি মাদক মামলা, ৬ টি চুরির মামলা, ২ টি দস্যুতার মামলাসহ মোট বাইশটি মামলা। খালিশপুর থানার এফআইআর নং-৩০, তারিখ- ২৭ মে’২৬। ধারা- ৪/৫, আইন-শৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২। সোনাডাঙ্গা থানার এফআইআর নং-২৩, তারিখ-৩০ মার্চ’২৬; ধারা-৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ মূলে গ্রেফতার করা হয়।
সাদ্দাম গ্রেফতার হলেও তার স্ত্রী রাণী ও ছোট ভাই সাজু নেতৃত্বে মাদক পয়েন্টটি চলমান রয়েছে। এ মাদক পয়েন্টে সাদ্দামের পুরো পরিবারের সদস্যরা যুক্ত। তাছাড়াও রয়েছে কয়েকজন কর্মচারি। সাদ্দামের অবর্তমানে যারা মাদক পয়েন্টটি চালু রেখেছে তারা হলো সাদ্দামের ভাই রাজ, স্ত্রী রানী, সাজুর স্ত্রী বিথি, কর্মচারীরা হলো, বুদ, রিপন টোক, অনিক, হোসেন,শামীম,শান্ত,শাহীন,জুবায়ের,জাহিদ আরো অনেকে। এ ঘটানর পর ওই মাদক পয়েন্টে পুলিশের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা ভোরে মাদক বিক্রি করছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এসব কর্মচারি দৈনিক ৫শ’ টাকার বিনিময় এ মাদক বিক্রি করে থাকে বলে সূত্রটি জানায়।
১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাঃ সম্পাদক মফিজুর রহমান মাজু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ মাদক স¤্রাট সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে। অথচ মাদক উদ্ধার করতে পারলো না। এ খেলা পুলিশকে বন্ধ করতে হবে।
অন্য একটি সূত্র জানায়, পৌর সুপার মাকের্টের ব্যবাসায়ীদের পক্ষ থেকে হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলকে সাদ্দামের মাদক পয়েন্টের বেপরোয়ার কথাটি জানালে তিনি পুলিশকে নির্দেশ দেন তাকে গ্রেফতার করতে। তারই ধারাবাহিকতায় পুলিশ মাদক স¤্রাট সাদ্দামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন বলে সূত্রটি জানায়। এতে করে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের মাদক ব্যবসার ভাগিদার কোন কোন নেতা কস্ট পেয়েছেন। কারণ ওইসব নেতারা মাসোয়ারা নিয়ে এই মাদক পয়েন্টটি টিকিয়ে রেখেছে বলে সূত্রটি জানায়।



